গতি নেই নদী খননে

সংগ‍ৃহীত ছবি

সারা দেশ

গতি নেই নদী খননে

চলতি অর্থবছরে খনন লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ নদী, ৬ মাসে অগ্রগতি মাত্র ৩১ দশমিক ২৮ শতাংশ

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

বন্যা-জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় দেশের ৪৪৮টি নদী-খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরো ৫০০ নদী-খাল খননের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এসব নদী ও খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে সুরক্ষা পাবে। এর আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল, হাওরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকাকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের ১৭৮টি নদ-নদী খনন করে সেগুলোকে প্রবহমান করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য কয়েক ধাপে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢিমেতালে চলছে প্রকল্পটি। নানা কারণে নদী খনন প্রক্রিয়ায় গতি আনা যাচ্ছে না। তবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দৌড়ঝাঁপ করছেন সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে। জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক সারা দেশে ২০১৯-২০২০ সালে ৩৮টি নদীর ৪৫০ কিলোমিটার খনন কাজ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩১ দশমিক ২৮ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের ৬ মাস এরই মধ্যে চলে গেছে। অর্থাৎ বাকি ছয় মাসে অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করতে হবে।

জানতে চাইলে নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ বাংলাদেশের খবরকে আলাপকালে বলেন, বর্ষাকালে গেল। বর্ষাকালে নদী খনন প্রক্রিয়া চালানো যায় না। ফলে এই সময়ে খুব বেশি অগ্রগতি হয় না। সেপ্টেম্বর থেকে কার্যত খনন কার্যক্রমে গতি আসে। সার্বিক হিসাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বছর শেষে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে বলে আমি মনে করি। 

নদ-নদী খননের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সাল। আর এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিগত সময়ে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ২০ হাজার কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে ১০ হাজার কিলোমিটার সচল এবং সারা বছর নৌ-চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

পরিকল্পনায় খননের আওতায় থাকা ১৭৮টি নদ-নদীর মধ্যে উপকূল, হাওর ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৮০টিরও বেশি নদ-নদী প্রাধান্য পেয়েছে। এর মধ্যে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলেরই অর্ধশতাধিক নদ-নদী রয়েছে। এর আওতায় খুলনা অঞ্চলের কচা, পুঁটিমারী, পশুর, মেঘনা ও রূপসা নদী খননের মাধ্যমে খুলনা-মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেলের নাব্য উন্নয়ন করা হবে। চালনা-পাইকগাছা-আশাশুনি-নীলডুমুর নৌপথের নাব্য সংকট নিরসনে খনন করা হবে ধকধাদিয়া, মালংচা, আরপাঙ্গাশিয়া, মাথাভাঙ্গা খাল ও যমুনা নদী। কপোতাক্ষ নদ খননের মাধ্যমে চৌগাছা-ঝিকরগাছা-কলারোয়া-তালা-পাইকগাছা-কয়রা নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে আনা হবে। আর এসব নদী, নৌপথসহ খুলনা অঞ্চলের ১৩টি নৌপথ সচল করতে খনন করা হবে ২৮টি নদী। বরিশাল অঞ্চলে ১৫টি নৌপথের নাব্য ফিরিয়ে এনে সারা বছর সচল রাখতে ৩৮টি নদী খনন করা হবে।

যদিও এত বিশাল নৌপথ খনন করার মতো সক্ষমতা ও জনবল এই মুহূর্তে সংস্থাটির নেই। এদিকে ড্রেজিং কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে তদারকিও বাড়িয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি নদী খননের আগে ও পরে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করে রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক করে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এ পরিপত্রে নদী খননে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ১৬ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আশা করছে, এ বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। সমুদ্র বন্দরগুলো থেকে নৌপথেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করা যাবে। পাশাপাশি ফসল উৎপাদনে সেচ সুবিধা ও মাছ চাষ অনেকগুণ বেড়ে যাবে। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে।

বর্তমানে চলমান উল্লেখযোগ্য অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে এক হাজার ৯২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (প্রথম পর্যায়ে ২৪টি নৌপথ খনন) প্রকল্পের আওতায় ২৪টি নদী খননের কাজও চলছে। এর আওতায় চলছে দুই হাজার ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ উন্নয়নকাজ। পাশাপাশি ৫০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি নদীর ৬৩৫ কিলোমিটার ও ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মোংলা থেকে চাঁদপুর হয়ে রূপপুর পর্যন্ত নৌপথ খননকাজ চলছে।

সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদের ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ১৪তম বৈঠক কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, মাহফুজুর রহমান এবং এম আবদুল লতিফ বৈঠকে অংশ নেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads