গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতের পর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ক্ষত জেগে উঠতে শুরু করেছে। বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ তথ্য না পেলেও আংশিক যে তথ্য ঊর্ধ্বতন কতর্পক্ষকে প্রেরণ করেছেন তার চিত্র সিডরের চেয়ে কোন অংশে কম নয় বলে জানিয়েছেন গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন। বিশেষ করে বেড়িবঁাধগুলোর নাজুক অবস্থার জন্য এ এলাকার মানুষ বেশি আতঙ্কগ্রস্ত রয়েছে। বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের দাবি জানান এলাকার মানুষ।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ঘূর্ণিঝড়েরর দিন সব চেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত ছিলাম বেড়িবাঁধের বাইরের মানুষ ও যে সব গ্রামের বেড়িবাঁধ ছিড়ে গেছে। গলাচিপা উপজেলায় অন্তত টিএলাকায় বেড়িবঁধ ছিড়ে বা উপচে জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। এসব এলাকার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ আতঙ্কে বেড়িবাঁধে মাটি বা বালুর বস্তা দিয়ে পানি রোধ করার চেষ্টা করেছে। এলাকাগুলো হলো গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, গ্রামর্দ্দন, চরকাজলের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দর্জিবাড়ির সামনে, জিমতলা, চরবিশ্বাস ১ নম্বর স্লুইসঘেট, ডাকুয়ার তেতুলতলা, আমখোলার মুশুরিকাঠি ও গজালিয়া গ্রাম। এছাড়াও সদর ইউনিয়নের লোনদা-পক্ষিয়ার ৫ কপাটের স্লুইস। এ স্লুইসটির উপর থেকে মাটি ভেসে গিয়ে বিদজনক অবস্থায় রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারেই প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ৪৮টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৭২টি গভীর নলকূপ, ৩০৪টি পাকা টয়লেট, ৮৮৫ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৩৯০ জন কৃষক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ হাজার পুকুর ও ঘের বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এদিকে ৩ শ মাছ ধরার ট্রলার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খর পাওয়া গেছে।
সদর ইউনিয়নের মামুন ফরাজি বলেন, লোন্দা-পক্ষিয়া স্লুইসটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ কেউ নজর দেয় না। রেমালের আঘাত হানার পর থেকেই আমরা চিন্তায় ছিলাম। আর ১৫ মিনিট পানির চাপ এভাবে থাকলে আজ হয়তো আমরা এখানে এমনভাবে কতা কইতে পারতাম না।
গলাচিপা উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রাথমিক তথ্য মতে সম্র্পণ বিধ্বস্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ঘরবাড়ি।
গলাচিপা উপজেলা গত ৩৮ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গলাচিপা জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘড়ে অন্তত ৫২ টি বিদ্যুতের খঁটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে। তার ছিড়ে গেছে ১ শ কিলোমিটার, মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার। ট্রান্সফারমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫টি। তবে সম্পূর্ণ লাইন চালু হওয়ার পর সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আজ বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, এখনো আমরা পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করতে পারিনি। কারণ একদিকে অসহায় বন্যাপীড়িত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো জরুরি।





