মোঃআব্দুল মালিক, গোয়াইনঘাট সিলেট থেকেঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে স্বাস্হ সেবায় সূচিত হলো নবদিগন্তের। গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্হকমপ্লেক্সে প্রথম শুরু হলোএক্সরে আলট্রাসনো ইসিজি সহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা। এলাকাবাসীর স্বাস্হ্য সেবায় আধার পেরিয়ে নবযাত্রার শুরু হলেও জনবল সংকট রয়েছে চরমে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স ৩১শয়্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে সত্তর দশকে। ২০০৫ সালে নতুন ত্রিতলভবন নির্মান হয়।২০১১ সালের ২২ জানুয়ারী কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়।এলাকাবাসীর আশা ছিল স্বাস্হ্য সেবায় আসবে পরিবর্তন। অবশেষে ১৩ বছর পর গত ১৫ নভেম্বর শুর হলো এক্সরে, আলট্রাসনো সেবা।২০০৫ সালে সরকার কর্তৃক এক্সরে মেশিন দিলেও ছিল বাক্সবন্দী।সচল করতে শুধু টাকাই খরচা দেখানো হয়ছে। সেবা পায়নি জনসাধারন। এ বৎসর আরও একটি এক্সরে এলে পূরানোটিও সচল করে সেবাপ্রদান শুরু করেন স্বাস্হ্য প্রশাসক ডাঃ কিশোলায় সাহা।তবে টেকনিশিয়ান না থাকায় জৈন্তাপর স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের টেকনিশিয়ান আঃ সাত্তার সপ্তাহে বুধ বৃহস্পতিবার সেবা দিলে গোয়াইনঘাটের অসহায় রোগীরা ১৫ নভেম্বর কমপ্লেক্সে প্রথম এক্সরে সেবা পায়। আলট্রাসনো সেবাও প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে একটা পর্যন্ত চালু হয়েছে।ইসিজি অনেক পূর্বেই কমপ্লেক্সে ছিল কিন্তু সেবা ছিল ন। এনসিডি কর্ণারে খুজ নিয়ে জানা যায়( ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত) নয়শত ৫৮ জন ডায়বেটিস রোগী, প্রেসার রোগী ৩ হাজার ১৪৫ জন, হার্ড,কলেস্টেরল রুগীরা বিনামুল্য পাচ্ছেন সেবা প্রয়োজনীয় ঔষধ।গত প্রায় ৪মাস থেকে ডায়বেটিসের ঔষধ ছিল না।বর্তমানে সকল ঔষধ রয়েছে বলে জানান স্বাস্হ্য প্রশাসক। এনসিডি কর্ণারে সেবা দিচ্ছেন দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স।৩০ থেকে উর্ধবয়সী বয়সী নারীদের ক্যান্সার( জরায়ু- স্হন) প্রতিরোধে রয়েছে ভায়া টেস্টের ব্যবস্হা। এ ছাড়া আউটডোর সেবা সরকারী নিয়মে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল আড়াইটা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও সেই সময় মানা হচ্ছে না।
দন্ত বিভাগে ২২ সালের বন্যায় বিনষ্ট হওয়া চেয়ার এক্সরে সচল হলেও নেই প্রয়োজনীয় উপকরন। নেই সহকারী সার্জন দন্ত। যন্ত্রনাকাতর দাঁতের রোগীরা অসহায় রয়েছেন।ঐ বভাগের একমাত্র ভরসা ডেনটিস্ট টেকনিশিয়ান সামসুর রহমান সাগর।
স্বাস্হ্যসেবায় অতিতের তিমীর পেরিয়ে আলোর মুখ উকি দিলেও কাটছেনা কালো মেঘের ঘোর। চিকিৎসক কর্মচারী সংকট স্বাস্হসেবাকে পিচু টানছে। ওটি সেবা এখনও হয়নি চালু।সার্জারী চিকিৎক থাকলে থাকেন না এ্যানেস্তেশিয়া।ফলে বিশাল ওটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
দশ জন জুনিয়র কনসালটেন্টসহ মোট ৩০ চিকিৎসকের পদে ১১ জন রয়েছেন। আরও দুজন অন্যত্র প্রেসনে আছেন।দুজন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদোন্নতি হওয়ায় শিঘ্রই চলে যাবেন। এলাকায় চর্মরোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও কোন বিশেযজ্ঞ চিকিৎসক আজ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ পোস্টিং দেননি। ল্যাবের লোকজন থাকলেও বিভিন্ন উপকরন নেই যার ফলে সঠিক চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে।
নার্স ৩০ পদে ২৮জন কাগজে কলমে থাকলে ৫ জনকে প্রসনে অন্যত্র নেয়া হয়েছে। খাদিজা বেগম ও তাহেরা রহমান নামে দুজন নার্স গত ডিসেম্বর ২১ সালে যোগদান করলেও আর দায়িত্ব পালনে আসেননি।ওয়ার্ড কর্মীরা জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়।কমপ্লেক্সে লেগেছে মেরামতের ছোয়া। কমপ্লেক্স, ডাক্তার ডরমিটরীতে মেরামত কাজ চলছে। আবাসিক এলাকায় অনেক ভবন পরিত্যক্ত থাকলেও ঝুকি নিয়ে থকছেন কর্মচারীরা।
স্বাধীনতার ৫২ বছর পর উপজেলাবাসরী স্বাস্হ্যসেবায় উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনে যে নব দিগন্ত হাতছানি দিচ্ছে চিকিৎসক, কর্মচারী আর চিকিৎসা উপকরনের অভাবে আবার যেন বন্ধ না হয়,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সচেতন মহলের এটাই প্রত্যাশা।





