বাংলাদেশের সাম্প্রতিকতম গবেষণা সাফল্যের মধ্যে অন্যতম হল জিনোম সিকোয়েন্স। যেকোন জীবের সব জিনের তথ্য জানা গেলে তার পরিমার্জন, আংশিক পরিবর্তন ও শারীরিক বিভিন্ন কার্যকলাপের রহস্য ব্যাখ্যা করা সম্ভব। জিনোম সিকোয়েন্স এরকম বিভিন্ন তথ্য উন্মোচনের মাধ্যমে নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করে। পুরো পৃথিবীতেই জীববিজ্ঞানীদের কাছে তাই জিনোম সিকুয়েন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের মেধাবী বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে পাট ও ইলিশের জিনোম সিকুয়েন্স উন্মোচন করেছেন। এই যুগান্তকারী অগ্রযাত্রায় এবার যুক্ত হল বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন প্রাণী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জিনোম সিকুয়েন্স।
চট্টগ্রামে বসেই একদল গবেষক চমকপ্রদ এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেছেন এবং তা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত গবেষণা প্রকাশনা বায়োমেড সেন্ট্রাল এর বিএমসি রিসার্চ নোট্স এ। এই গবেষনার আরেকটি অংশ প্রকাশিত হয়েছে টেইলর এন্ড ফ্রান্সিস গ্রুপের খ্যাতনামা মাইটোকন্ড্রিয়া বি শীর্ষক প্রকাশনায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী ছিলেন সফল এই গবেষণায়। যারা ২জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাহাদিয়া কুমকুম ২০১৮ সালে এবং আতিক উল আলম ২০১৬ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়াও এই গবেষনা কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, ইউএসটিসি এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
গবেষণা নিয়ে মাহাদিয়া কুমকুম জানান, ডাটা এনালাইসিস করে ফাইনালি এন সি ডি আই এ ডাটা সাবমিট করি। ডাটা ভেলাইজেশন হওয়ার পরে ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য পেপার পাবলিকেশনের বায়োমেট্রিক সেন্ট্রালের জন্য পেপার প্রস্তুত করে জমা দেই। তারা বিভিন্ন যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে এটা গ্রহণ করা হয়।
এই গবেষণার ফলে ছাগলের মাংসের মান উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধির মত প্রয়োজনীয় গবেষনার বিভিন্ন তথ্য উন্মোচিত হল। আন্তর্জাতিক মানের সফল এই গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষকের কৃতিত্ব এই প্রতিষ্ঠানের জীববিজ্ঞান ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন গবেষক তৈরির প্রক্রিয়াকেই প্রমান করে।
গবেষণার সহযোগিতায় ছিল অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রব বিশ্ববিদ্যালয়, বেইজিং জিনোমিক ইস্টিটিউট ও সাউদার্ন ক্রস বিশ্ববিদ্যালয়।





