কুমিল্লার গৌরীপুরে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২১ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বাসটি গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইউটার্ন নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বাসটিতে হঠাৎ করে আগুন লেগে যায়। এসময় বাসের চালক ও হেল্পার নেমে গেলেও, আতংকিত হয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে যাত্রীরা নামতে পারেনি। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৫ জন। পরে স্থানীয়রা এসে আগুন নিভিয়ে অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করে এবং দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠায়।
দাউদকান্দি থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, বাসের ইঞ্জিন থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লেগে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দাউদকান্দি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিকভাবে বাসটি থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দগ্ধদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।
নিহতদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছে। শিশুটির বয়স সাত বছর বলে জানা গেছে। দগ্ধদের মধ্য ৯ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন সাতজন। পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বাসটিতে আগুন লাগার পূর্বে স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়েছিল। সিলিন্ডার লিকেজ থেকেও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে চাঁদপুর জেলার মতলবগামী যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকা-চট্টগ্রাম গৌরীপুরে ইউটার্ন করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসটিতে আগুন লেগে যায়। তাদের দাবি, এসময় আগুনে দগ্ধ হয়ে তিন যাত্রী নিহত হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৭ যাত্রীকে আহত ও দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাদের ৯ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
কুমিল্লা হাইওয়ের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন দুই যাত্রী দগ্ধ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।





