চাঁদপুরে আলুর বাম্পার ফলন

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

ফিচার

কৃষকের মুখে হাসি

চাঁদপুরে আলুর বাম্পার ফলন

ঘরে আলু তোলা শুরু

  • চাঁদপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৮ মার্চ, ২০২০

আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর চাঁদপুর জেলায় উদ্ভাবিত নতুন ৭ জাতের আলুসহ বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি মৌসুমে কৃষকদের ঘরে আলু তোলা শুরু হয়ছেে । বস্তায় বস্তায় আলু হিমাগারে যাওয়াও শুরু হয়ছেে । উৎপাদনরে জন্যে এবার অনকেটাই কৃষকদের অনুকূলে ছিলো বলে জানায় স্থানীয় কৃষকরা। আলুর রং ও আকারও ভালা বলে কৃষকগণ জানান। এদিকে আলুর বাম্পার ফলনে দারুন খুশি জেলার সকল আলু চাষীরা। তবে, বাজারে সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন তারা। 

চাঁদপুর খামার বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধদিপ্তররে সূত্র মতে , জেলা কৃষি বিভাগ ৮ উপজেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮হাজার ৫৭ হেক্টর নির্ধারণ করলেও আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ১৫০ হেক্টরে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ আলু উত্তোলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের ধারণা এ বছর জেলায় ২ লাখ ৩৬ হাজার মেট্টিক টন আলু উৎপাদন হবে। জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সবচাইতে বেশী আলু আবাদ হয়েছে ৩০৬০ হেক্টরে।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, এবছর চাঁদপুর সদর উপজেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ১৫৪৫ হেক্টরে, মতলব উত্তর উপজেলায় ৬২০ হেক্টর, মতলব দক্ষিন উপজেলায় ৩০৬০ হেক্টর, হাজীগঞ্জে ৬০০ হেক্টর, শাহরাস্তি উপজেলায় ২৫ হেক্টর, কচুয়া উপজেলায় ২০৬০ হেক্টর, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৮০ হেক্টর ও হাইমচর উপজেলায় ১৬০ হেক্টর।

এদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রে) উদ্ভাবিত নতুন জাতের বারি-৩৫, ৩৬,৩৭, ৪০, ৪১, এবং বারি-৭ ও বারি-২৫ জাতের আলু চাঁদপুর সদর উপজেলার বাখরপুর এবং গোবিন্দপুর গ্রামের ৭জন কৃষকের এক একর ২০ শতাংশ জমিতে এই প্রথমবারের মত চাষ করা হয়। এসব চাষকৃত জমিতে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৮ থেকে ১০ মেট্টিক টন বেশী উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ শেখ বলেন, গত কয়েকবছর আলুর ফলন ভালো হলেও উত্তোলনের ঠিক আগ মুহুর্তে বৃষ্টির কারণে সব আলু নষ্ট হয়ে যায়। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আলুর ফলনও ভাল হয়েছে এবং তারা এসব আলু বিক্রি করতে শুরু করেছেন। প্রতি মণ আলু পাইকারী ৫০০ থেকে ৫৫০টাকা বিক্রি হচ্ছে।

সদরের হানারচর ইউনিয়নের কৃষক মুকবুল হোসেন ও নাজিম মিয়াজী বলেন, ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও পার্শবর্তী চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামে এবছর উদ্ভাবিত নতুন জাতের বারি-৩৫, ৩৬,৩৭, ৪০, ৪১, এবং বারি-৭ ও বারি-২৫ আলু আবাদ করেছেন। এতে তাদের আগের চাইতে আলু উৎপাদন বেশী হয়েছে। ডায়মন্ড আলুতে দাগ পড়লেও নতুন জাতের আলুতে কোন দাগ পড়েনা।

হাজীগঞ্জ উপজেলার মাড়কী গ্রামের আলু চাষী জামাল ও সফিক জানান, উপজেলার মধ্যে কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নেই আলুর চাষ বেশী। এ গ্রামের এক পাশে হাজীগঞ্জ উপজেলা অপর পাশে মতলব উত্তর ও কচুয়া উপজেলা। এখান থেকে শুরু করে ৩ উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক আলু চাষ হয়। এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়ছে। তবে গাড়ী ভাড়া বেশী হওয়ায় আলু কোল্ডস্টোরেজ করতে সমস্যা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ হায়দার হোসেন বলেন, এ বছরই চাঁদপুরে প্রথম নতুন জাতের প্রদর্শনী প্লটে আলুর আবাদ করা হয়েছে। যেখানে অন্য আলু আবাদ করলে প্রতি হেক্টেরে ২৫-২৮ টন আলু উৎপাদন হয়, সেখানে নতুন জাতের আলু আবাদে উৎপাদন হয়েছে ৩৫-৩৮ টন। কৃষকরা নতুন জাতের আলুগুলো উৎপাদনের অবস্থা দেখে খুবই আগ্রহী হয়েছেন। আবাদের আগে আমরা যেভাবে তাদেরকে বলেছি, তারা চাষাবাদ করে এর কোন তারতম্য পায়নি। যার ফলে তাদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. আব্দু রশীদ বলেন, চাঁদপুর জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ৯৩ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ বেশী হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর কারণে ওই সময়কার অনেক মৌসুমী ফসলের আবাদ কম বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উত্তোলনের সময়ে আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারণে কৃষকরা স্বাভাবিকভাবে আলু ঘরে তুলতে পেরেছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় শতভাগ আলু উত্তোলন শেষ হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads