জাতীয়

চূড়ান্ত বিজয় ঘনিয়ে আসে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ ডিসেম্বর, ২০২১

১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অভ্যুদয়ের গৌরবময় বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের দশম দিন। ১৯৭১ সালে এ দিনটি ছিল শুক্রবার। বাস্তবতা অগ্রাহ্য করে এদিন মসজিদে মসজিদে পাকিস্তানের অখণ্ডতা ও সংহতি এবং যুদ্ধে পাকসেনাদের সাফল্য কামনা করে বিশেষ মুনাজাতের আয়োজন করা হয়। কোটি কোটি মুক্তিকামী মানুষের আকুতির কাছে তা যেন তুচ্ছ। লড়াকু ও অদম্য স্বাধীনতা সৈনিকদের অব্যাহত আন্দোলন চলছে। চতুর্দিক থেকে হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত ও জনপদ শত্রুমুক্ত করার সুখবর আসছে। একাত্তরের এদিন থেকেই মূলত স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ঘনিয়ে আসতে থাকে।

১৯৭১ সালের এই দিন রাজধানী ঢাকা ছাড়া দেশের বেশিরভাগ জেলা শত্রুমুক্ত হয়ে যায়। ঢাকায় চূড়ান্ত হামলা চালিয়ে শত্রুদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্যে এগিয়ে যায় যৌথবাহিনী। ঢাকায় চলছে কারফিউ আর ব্ল্যাক আউট। এদিকে মিত্রবাহিনীর বিমান হামলায় রেডিও ঢাকা কেন্দ্র স্তব্ধ হয়ে যায়। বোমা-রকেট ছুঁড়ে বিধ্বস্ত করে দেওয়া হয় ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর।

ইতিহাসের তথ্য বলছে, একাত্তরের এদিন দিবাগত রাতে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশিষ্ট সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেন, পিপিআই সংবাদ সংস্থার প্রধান সংবাদদাতা নিজামউদ্দিন, সৈয়দ নাজমুল হককে আলবদর-আলশামস বাহিনীর খুনিরা তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে অপহরণ করে। এরপর এ তিনজনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিন হেলিকপ্টার ও স্টিমারে মেঘনা নদী পেরিয়ে যায় মিত্রবাহিনী। ভৈরব বাজারের ঘাঁটি থেকে সেনারা সোজা ঢাকার দিকে এগোচ্ছিলেন। সম্মিলিত বাহিনীর গোলার মুখে পাকহানাদার বাহিনী মেঘনার তীরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অগ্রগতি রোধ করতে পারেনি। বাইরে থেকে পাকিস্তানি হানাদাররা যেন ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সেজন্য নদীপথে তাদের যতগুলো স্টিমার-গানবোট এগোনোর চেষ্টা করেছে, মিত্রবাহিনীর বিমান হামলায় সেসবের সলিল সমাধি হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধে পরাজয়ের আশঙ্কায় লে. জেনারেল নিয়াজি পালানোর পাঁয়তারা করে। তার এ গোপন অভিসন্ধি বিবিসি ফাঁস করে দেয়। ফলে তার পালানোর পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে মিত্রবাহিনীর বিমান আক্রমণে চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর অচল হয়ে পড়ে। কয়েকটি জাহাজভর্তি পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গোপসাগর দিয়ে পালানোর সময় ধরা পড়ে। সম্মিলিত বাহিনী উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধে সর্বাত্মক সাফল্য অর্জন করে। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে দিনাজপুর, রংপুর ও সৈয়দপুরের শত্রুবাহিনীকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads