নির্বাচন

ছাত্রাবস্থাতেই আড়াই কোটি টাকার মালিক এমপি পুত্র

  • ''
  • প্রকাশিত ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

ফয়সল চৌধুরী,হবিগঞ্জ ॥

ছাত্রবস্থাতেই শুন্য থেকে আড়াই কোটি টাকার মালিক হয়েছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের পূত্র ইফাত জামিল। শুধু পূত্র নয় স্ত্রীর আয় বেড়েছে সাড়ে ২৬ গুণ।  

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির দলীয় মনোনয়নে টানা তিনবারের সংসদ-সদস্য হন। এ সময়ে তার আয় ও সম্পদ মিলে বেড়েছে ৯ গুণ। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে দেওয়া তার হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরের ২০০৮ ও ২৩ সালের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেন, নিজের বাৎসরিক আয় ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৯০ টাকা। নগদ টাকা, ২৬ ভরি স্বর্ণ, গাড়ি, আসবাবপত্রসহ অস্থাবর সম্পত্তি ৩৬ লাখ ২ হাজার ৮০৪ টাকার এবং কৃষি, অকৃষি, আবাসিক/বাণিজ্যিক দালানসহ স্থাবর সম্পত্তি ৩৫ লাখ ২৩ হাজার টাকার। সব মিলিয়ে ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৯৪ টাকার সম্পদ ছিল। আর স্ত্রীর নামে ১৫ ভরি স্বর্ণ, আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৮ লাখ ৬০ হাজার ৫৮৪ টাকার অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পত্তি ১৪ শতাংশ পুকুর রকম ভূমি, যার মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৯ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ টাকার সম্পত্তি। তবে সন্তানদের কোনো সম্পদ নেই।

২০২৩ সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলফনামায় দেওয়া তথ্যে জানা যায়, নিজের বাৎসরিক আয় হয় ৩৭ লাখ ১৬ হাজার ৯১৬ টাকা। যা আইন পেশা, পরামর্শক ও সংসদ-সদস্য হিসাবে ভাতা এবং বাড়িভাড়া ও কৃষি খাত থেকে হয়। এর মাঝে সবচেয়ে বেশি আয় হয় আইন পেশা, পরামর্শক ও সংসদ-সদস্য হিসাবে প্রাপ্ত ভাতা থেকে। এ খাতে তার বছরে আয় হয় ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৯১৬ টাকা। ৩১ ভরি স্বর্ণ, গাড়ি, আসবাবপত্রসহ অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ৫৯ টাকার। কৃষিজমি, হবিগঞ্জ ও ঢাকায় বাড়ি, দোকান ভিটি, অকৃষি জমিসহ ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৬ টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। মোট সম্পত্তি বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২১ টাকা।

 

স্ত্রীর নামে ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আয় ৬৭ লাখ ৮ হাজার ৭৯ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ১০০ ভরি স্বর্ণ, গাড়ি, আসবাবপত্রসহ ৮৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি কৃষি, অকৃষি জমি ১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার। স্ত্রীর মোট সম্পত্তি আছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯ টাকার। ছেলের কৃষি, ব্যবসা ও বিভিন্ন খাত থেকে আয় ৯৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৯ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি ১০৮ ভরি স্বর্ণ ও ইলেকট্রিক পণ্য ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পত্তি কৃষি ও অকৃষি জমি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকার। তার নামে মোট সম্পত্তি রয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫ হাজার ১৫৯ টাকার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads