আজ থেকে শুরু হচ্ছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ছয়দিনে সারা দেশে ৩২ লাখ মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। এছাড়া বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ১৮ বছরের পরিবর্তে বয়স ২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ‘দেশব্যাপী কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন’ সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধি টিকা প্রদানের পরিসর বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ৭-১২ আগস্ট পর্যন্ত ছয় দিনে সারা দেশের ১৫ হাজারের বেশি টিকাদান কেন্দ্রে প্রায় ৩২ লাখ মানুষকে দেওয়া হবে প্রথম ডোজ। খুরশীদ আলম বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে দেখেছি, চারটি হাসপাতালের করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের ডাটা আমরা দেখেছি। তারা কেউ টিকা দেননি। তাদের অধিকাংশই গ্রামের। তাদের জন্য এই ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। তাদের টিকা নিশ্চিত করতে পারলে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এমনটি এখন যারা প্রথম ডোজ পাবেন, তাদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ সংরক্ষণ করে টিকা দেওয়া হবে। তিনি জানান, ক্যাম্পেইন চলাকালীন প্রতি জেলায় এক দিন করে এই কর্মসূচি চলবে। ২৫ ঊর্ধ্ব যারা নিবন্ধন করতে পারেননি, তারাও এই সময় টিকা নিতে পারবেন। তবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে পঞ্চাশোর্ধ্ব, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের। ৭ আগস্ট থেকে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পইনের আওতায় সারা দেশে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়নে, এক হাজার ৫৪টি পৌরসভায় এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৪৩৩টি ওয়ার্ডে ৩২ হাজার ৭০৬ জন টিকাদানকারী এবং ৪৮ হাজার ৪৫৯ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে একযোগে কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হবে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রেখে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গণটিকা ক্যাম্পেইনে বয়সসীমা ১৮ করার পরিকল্পনা থাকলেও টিকা প্রয়োগের এক দিন আগেই এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে সরকার।
এবিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ১৮ বছর বয়সীদের অনেকের আইডি কার্ড নেই। এতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। তাই বয়স ১৮ না করে ২৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যারা আগে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা যেখানে কেন্দ্র নির্ধারণ করেছেন সেখানে টিকা নেবেন। ক্যাম্পেইনের টিকাদান আলাদাভাবে পরিচালিত হবে।
তিনি আরো বলেন, যে কোনো ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে প্রদানে পরিকল্পনা করা সম্ভব হয় না। আমরা আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করেছি। দেশে ভ্যাকসিনের ঘাটতি থাকলেও সবাইকেই ভ্যাকসিন প্রদানে সরকার বদ্ধপরিকর। এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৯ হাজারের অধিক মানুষকে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, কোভিক্সসহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন উৎপাদনকারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দেশেও ভ্যাকসিন উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নেতিবাচক চিন্তা ও কুসংস্কার পরিহার করে ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে ভ্যাকসিনের ডিপ্লোম্যাসি আছে। যে ভ্যাকসিন বেশি আকারে আমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে সিনোফার্ম। এই ভ্যাকসিন সিঙ্গেল ডোজ, সিঙ্গেল ভায়েল। এর আগে আমরা এনেছিলাম অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সেটা ছিল ১০টি ডোজের একটি ভায়েল। এটি বেশি পরিমাণে সংরক্ষণ করা যায়। ঈদের আগে আমাদের টিকা গ্রহণের পরিমাণ কম ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্যাম্পেইনের ঘোষণা দেওয়ার পরে গত ১০ দিনে আমরা দেখলাম প্রায় ৩০ লাখ মানুষ টিকা গ্রহণ করেছে। এটাও একটা বড় বিষয়।
আমরা চিন্তা করেছিলাম, যদি আমরা ম্যাসিভ আকারে ক্যাম্পেইন না করতে পারি বা মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করতে না পারি তাহলে সারা দেশে যেখানে আমাদের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হবে এত মানুষকে আমরা কীভাবে কাভার করব? এটা পাইলট প্রজেক্ট বলা যেতে পারে। আমরা নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করতে চাই। আমরা দেখতে চাই, আমাদের লোকেরা, প্রান্তিক পর্যায়ে এক দিনে কী পরিমাণ টিকা নিতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, এমআইএস পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, ইপিআই কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ডা. মওলা বক্স চৌধুরী প্রমুখ।





