সারা দেশ

জনবল সংকটে বেহালদশা লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল

১৭জন চিকিৎসকের পদ শূন্য, নষ্ট কোটি টাকার এক্সরে মেশিন

  • এস কে সাহেদ, লালমনিরহাট
  • প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

জেলার প্রায় ১৮লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার ভরসাস্থল লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় জনবল সংকটে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা ভেঙ্গে পড়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে শূন্য ১৭জন চিকিৎসকের পদ। নষ্ট প্রায় কোটি টাকার আধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে লালমানিরহাট সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা হতে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দেন। এরপর প্রথম পর্যায়ে ১০০শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ১৫০ শয্যার কার্যক্রম। জনবল সংকটে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, জেলা শহরে ১৫০ শয্যার হাসপাতালসহ ১০শয্যার একটি মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং জেলার ৫উপজেলায় ৫০শয্যার ৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। উপজেলা শহরের প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট। সরকারী হাসপাতালে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে বেসরকারী ক্লিনিকমূখী হচ্ছেন জেলার মানুষ। আর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুধু জেলা ও উপজেলা শহরের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাংঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ক্লিনিক ও ডায়োগোনিষ্টিক সেন্টার। 

হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, জেলা হাসপাতালে ১৭টি মেডিকেল অফিসারের পদ দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শূন্য রয়েছে। অনেক সময় মেডিকেল অফিসার ছাড়াই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চলে সহকারী মেডিকেল অফিসার দিয়ে। কয়েকজন চিকিৎসককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে এনে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিবিৎসা কার্যক্রম চালালেও সম্প্রতি এদের কয়েক জন অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেছেন। এছাড়াও হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য পৃথক কোন ওয়ার্ড না থাকায় কেবিনে রেখে চিকিৎসা চলছে। এছাড়াও হাসপাতালের পাশে স্থাপিত সরকারি নাসিং ইনষ্টিটিউটটিতে নার্সদের আবাসিক হলের রুমে ২০শয্যার করোনারোগীদের সাধারণ চিকিৎসা সেবা দিতে অস্থায়ী হাসপাতাল ঘোষণা করে চিকিৎসা চলছে। তবে শুরুর দিকে এখানে ১৩জন নতুন চিকিৎসক যোগ দিলেও বর্তমানে ৪জন চিকিৎসক অন্যত্র চলে গেছেন। দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে সরকারি নিয়োগ প্রাপ্ত আয়া ও ওয়ার্ডবয় নেই। স্থানীয় অস্থায়ী জনবল দিয়ে আয়া ও ওয়ার্ড বয়ের কাজ চলছে। নিয়োগ প্রাপ্ত সুইপার সংকটের কারনে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ময়লা আবজর্না।

জানাগেছে, হাসাপাতালে কর্মরত বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভাগীয় রংপুর শহরে বসবাস করেন। সেখানে তারা নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। সেখানেও নিয়মিত কাজ করেন। তারা নানা অজুহাতে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকেন। এদিকে চিকিৎসক সংকটে হাসপাতালে বন্ধ রয়েছে অস্ত্রপাচার। প্রায় কোটি টাকার আধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট, দামী ওটি ও আল্ট্রোসোনগ্র্যাম মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। রক্তের অনেক পরীক্ষাই এখানে হয় না।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানান, গত শুক্রবার প্রায় একশত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু রোগীদের কাঙ্খিত সেবা ইচ্ছা থাকলেও দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে ১৭টি মেডিকেল অফিসারের পদ প্রায় দেড় বছর ধরে শুণ্য রয়েছে। সরকারি ভাবে কোন আয়া ও ওয়ার্ড বয়ের নিয়োগ নেই। বিনা বেতনে স্থানীয় আয়া ও ওয়ার্ড বয় দিয়ে হাসপাতালে কি ধরণের সেবা দেয়া যায় ? উল্টো প্রশ্ন রাখেন।

সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মূলেন্দু রায় জানান, হাসপাতালের পাশে আড়াইশত শয্যার হাসপাতালের একটি ৮তল বিল্ডিং প্রায় নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। ডিসেম্বর মাসে গণপুর্ত বিভাগ হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। সেখানে পৃথক সরকার ঘোষিত ইউনিট গুলো চালু করা যাবে। তবে এ মুহুর্তে হাসপাতালে চিকিৎসক, আয়া ও ওয়ার্ডবয় প্রয়োজন। স্বল্প জনবলে করোনা পরিস্থিতির বিপর্যয় মোকাবিলায় কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads