জাবিতে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে তিন শিক্ষার্থী আটক

ছবি : বাংলাদেশের খবর

শিক্ষা

জাবিতে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে তিন শিক্ষার্থী আটক

  • জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ মার্চ, ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্টানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পানির পাম্প এলাকায় এক পথচারীকে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে তিন শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই তিনজন ছাত্র পথচারীকে বেধড়ক মারধর করে ছিনতাইকালে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেয় উপস্থিত লোকজন। পরে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা অফিসে হাজির করা হয় এবং আহত পথচারীকে চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সঞ্জয় ঘোষ (৪৪ ব্যাচ), ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের রায়হান পাটোয়ারি (৪৫ ব্যাচ) এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের আর রাজি (৪৫ ব্যাচ)। এদের মধ্যে রায়হান পাটোয়ারির ওপর অন্য একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই বছরের বহিষ্কারাদেশ রয়েছে। তারপরেও তিনি নিয়মিত হলে থাকছেন ও বহাল তবিয়তে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। এদিকে ছিনতাই চেষ্টার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরারবর একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ওই পথচারী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্টানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন সড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য ক্যাম্পাসের বিশমাইল এলাকার শ্বশুর বাড়ির কোয়াটার থেকে যাচ্ছিলেন এক পথচারী। পথিমধ্যে ওই পথচারীকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে সড়ক থেকে জিম্মি করে পানির পাম্প সংলগ্ন ঝোঁপে নিয়ে গিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। এসময় পথচারীকে দিয়ে বাড়িতে ফোন কলের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ছিনতাইকারীরা। পথচারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এবং সাথে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ে বাধা দিলে তাকে মারধর করতে থাকে ছিনতাইকারীরা। এক পর্যায়ে মারধর ও ধস্তাধস্তির শব্দ শোনে সড়ক থেকে উপস্থিত কয়েকজন পথচারী ঘটনাস্থলে গেলে দুই জন ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। বাকি তিনজনকে লোকজন হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপত্তা শাখার কর্মকতারা উদ্ধার করে।

ভূক্তভোগী পথচারী বলেন, ভোরে ফার্মগেটে যাওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে রওনা হই। পথিমধ্যে তারা আমাকে আটকায়। এরপর কিল-ঘুষি মারতে থাকে ও আমার সাথে যা কিছু আছে চায়। এছাড়াও বাড়িতে কল দিয়ে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপ দাবি করে। আমি তাদের দাবি মানতে রাজি না হলে তারা আমাকে চেইন দিয়ে বেধড়ক মারতে থাকে। পরে আশেপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে।

ছিনতাই চেষ্টার বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জয় ঘোষ বলেন, জুনিয়রদের ফোন পেয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে যাই। গিয়ে দেখি, ওরা তাকে মারধর করছে। তবে ছিনতাই ও মুক্তিপন দাবি করা হয়নি। অপর দুইজন অভিযুক্ত মো. আল রাজী ও মো. রায়হান পাটোয়ারি মারধরের কথা স্বীকার করলেও ছিনতাই ও মুক্তিপন দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এদের মধ্যে সঞ্জয় ঘোষ ও মো. আল রাজী ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ও ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়ের রানার অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান বলেন, অভিযুক্তরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাদে ছিনতাইয়ের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ডিসিপ্লিনারী বৈঠকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগের একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রায়হান পাটোয়ারি দুই বছর বহিষ্কৃত তারপরেও তিনি ক্যাম্পাসে কেন এমন প্রশ্নে প্রক্টর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads