জামালপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত একজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ছানোয়ার হোসেন (২৫) নামের একজন রোগী গত ৫ দিন ধরে ২৫০ শয্যার জামালপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি জামালপুর শহরের বানিয়াবাজার এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে।
জামালপুর সদর হাসপাতালে আরো ৭জন পুরুষ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। তবে জেলা সদরের এ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পড়েছেন বিপাকে।
রোগীদের হাসপাতালের বাইরে শহরের ক্লিনিক থেকে ডেঙ্গু রোগীর রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন।
জামালপুর সদর হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ছানোয়ার হোসেন জানান, তিনি ঢাকার মতিঝিল এলাকায় একটি মেসে থাকেন। ঢাকায় একটি বেসরকারি কারিগরি কলেজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমার ছাত্র। ঢাকায় অবস্থানকালে গত শনিবার তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা এবং মাঝে মাঝে বমি হচ্ছিল। পরে জ্বর নিয়েই তিনি জামালপুরে চলে আসেন। গত রোববার তিনি জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় জামালপুর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে রক্ত পরীক্ষা করা হলে তার শরীরে প্রাথমিক স্তরের অর্থাৎ এনএস-১ টাইপের ডেঙ্গু জ্বর ধরা পড়ে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে তার শরীরে এখনো জ্বর আছে।
জামালপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এ কে এম শফিকুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের ৩টি স্তরের মধ্যে ভর্তি থাকা রোগীর ডেঙ্গু জ্বর প্রাথমিক স্তর এনএস-১ শনাক্ত হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দুয়েক দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন।
ডা. শফিকুজ্জামান আরো বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত জামালপুর সদর হাসপাতালে আরো ৭ জন পুরুষ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করার জন্য কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। এখন ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত করতে বাইরে ক্লিনিকে রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। ৩ স্তরের রক্ত পরীক্ষা করাতে রোগীদের ব্যয় করতে হচ্ছে ১ হাজার ৫শ টাকা। কিন্তু হাসপাতালে ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের বাড়তি টাকা খরচের ঝামেলা পোহাতে হতো না। দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতো।
ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করার ব্যবস্থা না থাকা প্রসঙ্গে জামালপুর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহা বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা বাইরে ক্লিনিকে যেটা করা যায়, তা অনেকটা অনুমাননির্ভর। তাই এ হাসপাতালেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যাতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। তাই আমাদেরও প্রস্তুতি থাকতে হবে। এজন্য এ বিষয়টি ঢাকায় আমাদের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে জরুরি প্রয়োজনীয় সহায়তা চাইবো।





