সারা দেশ

জাল দলিলে জমি দখলের অভিযোগ, আদালতে মামলা তোয়াক্কা নেই বিবাদীর

  • ''
  • প্রকাশিত ২ জুন, ২০২৪

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী ডিমলায় টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চড়খড়িবাড়ী গ্রামের মো. সামসুল হকের ছেলে বিবাদী অহিবর রহমান (৪১), আখের আলী (৩১) ও অহিজুল ইসলাম (৩৬)এর বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় উপজেলার চড়খড়িবাড়ী গ্রামের মো. নূর হোসেনের ছেলে শাহাদুল ইসলাম (৪০) বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৯ মে নীলফামারী ডিমলা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ‘বাদী শাহাদুল ইসলাম কবুলিয়াত মুলে বিএস ৮৬০ খতিয়ানে ৬৯৬ দাগে ২৪ শতাংশ ও পৈত্রিক সুত্রে এসএ ৪১২ খতিয়ানে একই দাগে ২৬ শতাংশ মোট ৫০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন থেকে ভোগদখল করে আসছে।

এদিকে,জালিয়াতি করে চলতি বছরের ২২ জুলাই পিতার নামে এসএ ২০৭৭ ও নিজ নামে বিএস ৮৬০ খতিয়ান খুলে ভূয়া দাতা সেজে ওই তিন ভাইয়ের নামে লিখে দেন মামলার আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক। যার দলিল নং-৫০৫১। তা আদালতে এটি ভূয়া দলিল হিসেবে প্রমানিত হয়। এরপর ওই জমিতে বাদী শাহাদুল ভূট্টা তুলতে গেলে বিবাদীগন লাটি সোডা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাধা প্রদান করে এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ বিষয়ে বাদীর স্ত্রী মঞ্জু আক্তার আসামিগণের বিরুদ্ধে একটি সি,আর মামলা করেন।’

এই মামলায় জামিনে বের হয়ে ফের ১৭ মে/২৪ আনুমান সকাল ৮টায় আসামিরা ক্ষেত থেকে ভূট্টা কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় বাদী ও বাদীর স্ত্রী বাধা দিলে তাদের মার ডাং ও হত্যাসহ দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

একই গ্রামের রফিকুল (৪৮) ইসলাম জানান, ‘টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও পিতা মৃত্যু হরমুজ আলীর ছেলে মো. দুলাল হোসেন সরাসরি অন্যায়ভাবে আসামীগনকে উসকিয়ে দিয়ে আইন শৃঙ্গলা পরিস্থিতির অবনতি করেছে। অথচ তিনিই পারেন সমস্যার সমাধান দিতে। কিন্ত তা না করে বাদী বিবাদীর উভয়ের নিকট ফায়দা নিচ্ছে।’

ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আরোজ আলী খান (৪৩) জানান, ‘বাদী শাহাদুল এস এ ও বিএস খতিয়ান মূলে ৬৯৬ দাগে ৫০ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছে। হঠাৎ তারা একটি ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে অহিবররা। অথচ গ্রামবাসী সবাই জানে জমিটি দীর্ঘদিন ধরে কবুলিয়াত ও পৈত্রিক সুত্রে ভোগদখল করে আসছে শাহাদুল। এটার ন্যায্য বিচার হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।’

উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী (৪৮) জানান, ‘মামলাটি আদালতে বিচারাধিন। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বিকালে পুলিশ এ ঘটনায় তদন্তে গেলে পুলিশের সামনেই বিবাদীরা বাদীকে মার ডাংসহ ভয়ভীতি দেখায়। তিনি বলেন, ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে আইনকে বুড়ো আঙ্গল দেখিয়ে গায়ের জোড়ে আর্থিক ক্ষতিসহসহ বাদীকে হয়রানী করছে আসামিরা।

তিনি আরও জানান, ‘আমার জানামতে সরকারের কাছে কবুলিয়াত মূলে ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে শাহাদুল ২৪ শতাংশ আর পৈত্রিক মূলে ২৬ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছে। হঠাৎ আসামিগন একটি ভূয়া দলিল তৈরী করে দখলের চেষ্টা করে। এযেন দূর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার বলে আমার মনে হয়। এসব দেখার কেউ নেই। যে কোন সময় আইন শৃঙ্গলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।’

ডিমলা থানার ওসি দেবাশিষ রায় জানান, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। দোষী কারা। জমি কে পাবে সেটি আদালতের বিষয়। তিনি বলেন, মামলার বাদী শাহাদুল ইসলামকে তার জমি থেকে ভুট্টা তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads