জীবন সঙ্কটে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

জীবন সঙ্কটে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৪ মার্চ, ২০১৯

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও জীবন এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। তবে এখনই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে না। হূদরোগে আক্রান্ত কাদেরের চিকিৎসা হবে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)।

গতকাল সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক তাকে দেখার পরে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ সিদ্ধান্ত নেন।

উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সকাল ও দুপুরের চেয়ে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা ভালো। তার প্রস্রাব হচ্ছে, এটা ভালো লক্ষণ। পানি পান করবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি (কাদের) সাড়াও দিয়েছেন। তার ব্লাড প্রেশারও এখন স্থিতিশীল।

তিনি বলেন, তার অবস্থা যেহেতু উন্নতির দিকে তাই এখনই তাকে সিঙ্গাপুরে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকরাও তাতে সায় দিয়েছেন।

তবে সন্ধ্যায় তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ আলী আহসান এ সময় বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। তিনি পা নাড়াতে পারছেন, চোখও খুলছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল।’

এর আগে দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাদেরের শারীরিক অবস্থা ওঠানামার মধ্যে আছে। দোয়া করা ছাড়া কিছু করার নেই। যেহেতু তিনি ভেন্টিলেশনে আছেন, সেহেতু তিনি জীবন শঙ্কায় আছেন বলা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাকে (ওবায়দুল কাদের) সিঙ্গাপুরে পাঠানো যাবে কি না- যদি শুনতে চান, তাহলে আমি বলব, না। তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো যাবে না। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত আছে যে, তার যেমন চিকিৎসা চলছে, সেটাসহ আরো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এর আগেও তার হার্ট অ্যাটাকের হিস্ট্রি ছিল।’

চিকিৎসক আরো বলেন, ‘তার (কাদের) যে রক্তনালিটা সবচেয়ে বেশি ক্রিটিক্যাল ছিল, আমরা শুধু সেটাই ঠিক করেছি। কিন্তু সেটা বোধ হয় পর্যাপ্ত নয়। কারণ তিনটি নালি প্রয়োজন হয় রক্ত সরবরাহের জন্য। কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো সারানো যাবে না। সেগুলো ঠিক করতে গেলে আরো বিপদ ঘটবে। যে নালিটা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, ওই নালিটা ঠিক করার পর তার পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতির পর্যায়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন অবস্থার উন্নতি হয়, অবনতি হয়, এমন অবস্থা চলছে।’

এদিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসাধীন সেতুমন্ত্রীকে দেখতে গতকাল বিকালে বিএসএমএমইউতে যান। এ সময় তারা মন্ত্রীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন ও তার আশু সুস্থতা কামনা করেন। বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে বিএসএমএমইউতে পৌঁছে ডি ব্লকের দোতলায় কার্ডিওলজি বিভাগে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে সিসিইউতে তখন ভর্তি ছিলেন কাদের। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন কাদেরকে দেখতে গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিএসএমএমইউতে যান। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তিনি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। রাষ্ট্রপতির কয়েক মিনিট পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও হাসপাতালে যান কাদেরকে দেখতে।

রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গতকাল ঢাকায় ফিরে দলের সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতার খবর পেয়ে দ্রুত তাকে দেখতে হাসপাতালে যান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদকের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলে সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

ওবায়দুল কাদেরকে গতকাল হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তার (কাদের) শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেই তাকে বিদেশে নেওয়া হবে।’

বিএসএমএমইউর উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওবায়দুল কাদেরের হার্ট অ্যাটাক হয়। রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তখনই তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে এনজিওগ্রাম করে দেখা যায়, তার হূদযন্ত্রে তিনটি ব্লক। একটিতে স্টেন্টিং করে দেওয়া হয়েছে।’

সেতুমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জানান, ‘রোববার সকালে ফজরের নামাজ শেষে হঠাৎই স্যারের (কাদের) শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে চেকআপ করেন ও দ্রুত এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে কার্ডিওলজি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটিতে রিং পরানো হয়।’

কাদেরের চিকিৎসায় বিএসএমএমইউর হূদরোগ বিভাগের পক্ষ থেকে গঠিত মেডিকেল বোর্ডে আরো আছেন অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ, অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত ভৌমিক, অধ্যাপক ডা. একেএম আক্তারুজ্জামান, কার্ডিও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রেজওয়ানুল হক, অধ্যাপক অসিত বরণ অধিকারী, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, ডা. তানিয়া সাজ্জাদ, প্রিভেনটিভ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে দেখতে গতকাল ছুটে যান মন্ত্রিসভার বর্তমান ও সাবেক অনেক সদস্যসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। হাসপাতালে ছুটে যান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন প্রমুখ।

এ ছাড়া হাসপাতালে ভিড় করেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন থানা এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ সময় হাসপাতালে প্রচুর ভিড় হয়। সেতুমন্ত্রীকে দেখার জন্য হাসপাতালে ভিড় না করতে নেতাকর্মীদের একপর্যায়ে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে অযথা যেন কেউ ভিড় না করেন। যারা সমবেদনা জানাতে আসবেন, তারা যেন কেউ উপরে দোতলায় না যান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক কাদেরের শারীরিক সুস্থতা কামনায় গতকাল মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। বিকালে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে  মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়ায় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads