জাতীয়

জ্বালানির উত্তাপে পুড়বে জনগণ

  • এম এ বাবর
  • প্রকাশিত ৫ নভেম্বর, ২০২১

করোনায় লকডাউন-পরবর্তী দফায় দফায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে ডিজেল, কেরোসিন ও এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব পড়বে জনজীবনে। বাড়বে গণপরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম। মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তরা বলছেন, করোনা সংকটের মধ্যে জ্বালানির দামে জ্বলবে শ্রমজীবী ও কম বেতনের চাকরিজীবীরা। কারণ পণ্য মূল্য বৃদ্ধি ব্যয় আরো বাড়বে। সংসার চালাতে মাসে হিমশিম খেতে বাধ্য হবেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেল-কেরোসিন-এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বাড়বে পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। বাড়বে মূল্যস্ফীতি। ফলে মধ্য ও নিম্নবিত্তের জীবন ধারণ ব্যয় বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে গত বুধবার রাতে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়েছে। এই দুই জ্বালানি তেলের নতুন দর হবে লিটারপ্রতি ৮০ টাকা, যা এত দিন ৬৫ টাকা ছিল। এতে করে পরিবহন ও কৃষি ব্যয় বাড়বে, প্রভাব পড়বে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর ওপর। অন্যদিকে একই সময়ে বাড়ানো হলো এলপি গ্যাসের দাম। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৩১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অক্টোবর মাসে ছিল ১ হাজার ২৫৯ টাকা। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের খরচের খাত নিশ্চিতভাবে বাড়বে। 

দেশে দূরপাল্লার বাস-ট্রাকসহ অধিকাংশ গণপরিবহনে জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। তাই ডিজেল-কেরসিনের দাম বাড়ায় গণপরিবহনের জ্বালানি খরচ বাড়বে। এর ফলে বাড়বে দূরপাল্লার যানবাহনসহ বাস-ট্রাকের ভাড়া। পাশাপাশি সব ধরনের পণ্য পরিবহন খরচও বেড়ে যাবে। এতে বাড়বে নিত্যপণ্যের দামও। ডিজেল-কেরোসিনের মূল বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের জারি করা স্মারকমূলে বিভিন্ন প্রকারের পেট্রোলিয়াম পণ্যের মধ্যে শুধুডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য সংশোধন করা হলো।

অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন করে এলপি গ্যাসের দর ঘোষণা দিয়েছে। এতে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়ে ৫৪ টাকা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসে বাড়ল এলপিজি গ্যাসের দাম। নভেম্বর মাসের জন্য করসহ প্রতি কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম ১০৯ টাকা ৪২ পয়সা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতমাসে এই মূল্য ১০৪ টাকা ৯২ পয়সা ছিল। দাম বৃদ্ধির ফলে এখন ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াবে এক হাজার ৩১৩ টাকা। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিইআরসি’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব জানা গেছে।

অক্টোবরে এলপিজি মুসকসহ প্রতিকেজি ৮৬ টাকা ৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০৪ দশমিক ৯২ টাকা করেছিল বিইআরসি। এর ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম অক্টোবর মাসে এক হাজার ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ২৫৯ টাকা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি সিপি অনুসারে সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম যথাক্রমে প্রতি টন ৮৭০ এবং ৮৩০ ডলার, মিশ্রণ অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় নভেম্বরে জন্য এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অক্টোবরে ছিল যথাক্রমে প্রতি টন ৮০০ ডলার এবং ৭৯৫ ডলার।

ডিজেল-কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে সাধারণ নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি নাগরিক জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল-কেরোসিনের প্রতি লিটারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি, কৃষিকাজ ও গণপরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। গণপরিবহন মালিকরাও ভাড়া বাড়াবেন। পণ্যপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের এবার লাগাম ছিঁড়বে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে সব চাপ গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন যখন অতিষ্ঠ, ঠিক সেই মুহূর্তে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি আত্মঘাতী ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাপ। দলটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গনি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা এই জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত জনবিরোধী। এমনিতেই নিত্যপণ্য ঊর্ধ্বমূল্যে কিনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে মারাত্মক চাপে ফেলবে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ‘মড়ার ওপর অনেকটা খাঁড়ার ঘা’র মতো।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, অযৌক্তিকভাবে দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। তার ওপর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবন আরো কঠিন হয়ে পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এর বনানী কার্যালয়ে এক তিনি আরো বলেন, সরকারকে ব্যবসায়িক দৃষ্টি দিয়ে নয়, সেবার মনোভাব নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এই অজুহাতে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু করোনাকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কম ছিল, তখন তো তেলের দাম কমানো হয়নি। তখন যে পরিমাণ টাকা লাভ হয়েছে সেই টাকা কোথায় গেল বলে সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন তিনি। 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার নির্বাচিত নয় বলেই সংসদ কিংবা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না, তাই যা ইচ্ছা তাই করছে। নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য, ব্যবসা করার জন্য এসব জিনিসের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে।

সরকারের আশ্রয়ে দলীয় নেতাদের ঈঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস এসব কারা আমদানি করে। এতে সব ধরনের দ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ সরকার বিবর্তনমূলক, দমনমূলক আচরণ করছে।

তিনি বলেন, সরকার পণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর জুলুম করছে। এতে অর্থনীতিতে প্রচণ্ড রকমের চাপ সৃষ্টি হবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। ইতোমধ্যে ট্রাক শ্রমিক সংগঠনগুলো ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সেখানে আমাদের সমর্থন থাকবে।

এদিকে কেরোসিন ও ডিজেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম ভূঁইয়া জানান,  হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে নৌপরিবহনসহ সব পরিবহন ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সেইসঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

ডিজেল-কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি, যে প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে তা সম্পন্ন বেআইনি এবং কোনো বিবেচনাতেই তেলের দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় গঠিত কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের এখতিয়ার রয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। গণশুনানির ভিত্তিতে তেলের দাম বৃদ্ধি যৌক্তিক না অযৌক্তিক, ভোক্তাদের দ্বারা এবং নানা ধরনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত কিনা সেটা যাচাই-বাছাই করে মূল্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এটাই হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া এবং সেটা বিইআরসি করবে সেই বিষয়ে হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়েছে। এমতাবস্থায় বিইআরসির আইন লঙ্ঘন করে বিপিসির জ্বালানি বিভাগ থেকে যে কাজটা করা হলো, তা বিইআরসির আইন মতে অর্থদ্ল এবং কারাদ্ল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার মতই অপরাধ করেছে জ্বালানি বিভাগ। রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠান যদি এই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থান কোথায় ভাবলে আমাদের আতঙ্কিত হতে হয়।

তিনি আরো বলেন, মূল্যবৃদ্ধি অথবা যেকোনো কিছুই সরকার করুক না কেন তা জনস্বার্থেই করে। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হয় সরকারের কৃতকর্মের দ্বারা, সরকারের কর্ম সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তাদের কাজের এবং সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়। জ্বালানি বিভাগ মূল্যবৃদ্ধির আগে ভেবে দেখেনি এই কাজটি করলে, এটা জনস্বার্থে নাকি জনস্বার্থের বিপক্ষে হবে, মূল্যবৃদ্ধি জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে নাকি অভিশপ্ত আঘাত হবে, না জনগণকে নিপীড়ন করা হবে এটা তারা ভেবে দেখেনি।

জ্বালানি এ বিশেষজ্ঞ বলেন, কেরোসিনের গ্রাহক হচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষ। কেরোসিনের ঘাটতি যদি ৫ টাকা হয়, সেখানে ১৫ টাকা দাম বাড়িয়ে দেওয়া হল। কেরোসিনে কয় টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। সেই ভর্তুকির টাকাও কিন্তু আমরা ভোক্তারাই বিভিন্ন কর এবং ভ্যাটের মাধ্যমে প্রদান করি। কেরোসিন এবং ডিজেলের আমরা যে কর বা ভ্যাট দিচ্ছি প্রয়োজন হলে সেই কর বা ভ্যাট না নিয়ে, দাম কমিয়ে দিয়ে, ভর্তুকি বা ঘাটতি দেখানোর কৌশল থেকে কি নিজেদের বিরত রাখতে পারি না।  

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি এমন একটা পণ্য যার দাম বাড়লে, মূলত সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে এবং সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাবে। আজকের ডিজেলের দাম বেড়ে গেল, কালকেই পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাবে। ফলে পরিবহনে যেসব পণ্য আসবে সেগুলোর দামও বেড়ে যাবে। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। জ্বালানি এবং গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ানো হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় সেই তুনায় কয়েকগুন বেড়ে যাবে। করোনাকালে এমনিতেই মানুষের আয় হ্রাস হয়ে গেছে, ক্রয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের টিকে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। সেখানে এভাবে তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জায়গাটা দুর্বল এবং আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং করে দিলাম। তার পরিণতি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিবেচনা, কোনো বিবেচনাতেই গ্রহণযোগ্য বলা যায়না। তেলের দাম বৃদ্ধি যিনি করেছেন তিনি বেআইনিভাবে করেছেন। অন্যদিকে বৃদ্ধি করে যে পরিমাণ টাকা তিনি সাশ্রয় করছেন, সেই টাকাতে যে জনগণের কোনো উপকার হবে সেটাও বিবেচনার বিষয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads