দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শুরু হওয়া করোনার নতুন মারাত্মক ক্ষতিকর ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন, দেশে প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্তকতা জারি করা হয়েছে। এরইমধ্যে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সীমান্তের চেক পোস্টগুলোতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয় এড়াতে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিসের’ মতোই এবার ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন মোকাবেলায় করণীয় ঠিক করতে এ সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নো মাস্ক নো সার্ভিস নয়, নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস বিষয়ে সব চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের করোনা প্রতিরোধী টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আফ্রিকা থেকে এখন না আসতে নিরুৎসাহিত করছে সরকার, যদি কেউ খুব জরুরি প্রয়োজনে চলে আসেন তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করতে হবে এ কথা জানিয়ে করোনার নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে আরো কঠোর হওয়ার কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে লোকজন যেন এই মুহূর্তে দেশে না আসেন। যারা আসবেন তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সশস্ত্র বাহিনী বিষয়টি দেখভাল করবেন। অন্য দেশে সংক্রমণ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত ওইসব দেশ থেকে করোনা নেগেটিভ টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এসব দেশে বাড়লে সেসব দেশ থেকে আগতদেরও কোয়ারেন্টাইন করতে হবে।
কীভাবে এটা বাস্তবায়ন হবে-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখানে বসেই ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস’ স্লোগানটা তৈরি হয়েছে। আমরা এটা চিঠির মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেবো। তারা এটাকে যার যার মতো করে এনফোর্স করবে। টার্গেট লেভেলে আমরা ব্যবসায়িক সংস্থাকে জানিয়ে দেব। সরকারিভাবে সরকারি সংস্থাকে জানিয়ে দেবো।’
মন্ত্রী আরো বলেন, জাহিদ মালেক বলেন, করোনা মোকাবিলায় জেলা কমিটিকে চিঠি দেওয়া হবে। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিবে যেন সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়। নতুন করে যেন অনুষ্ঠান হাতে নেওয়া না হয় সে ব্যাপারে নজর দেওয়া হবে। মসজিদে যেন আলোচনা হয়, ভুল মেসেজ যেন না যায়।
বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা টেস্ট ৭২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৪৮ ঘণ্টা করার চিন্তা করা হচ্ছে। সীমান্ত চেক পোস্টগুলোতে কঠোর নজরদারি করা হবে। পার্শ্ববর্তী দেশে যাতায়াত কমিয়ে আনা যায় কিনা সে বিষয়ে চিন্তা চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গত এক মাসে ২৪০ জন এসেছে। তারা অনেকে মোবাইল বন্ধ রেখেছে, ঠিকানা ভুল দিয়েছে। ফলে তাদের ট্রেস করা কঠিন হচ্ছে। স্কুলের দিন যেন না বাড়ানো হয় সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে। বাসে মাস্ক পরার জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। দাপ্তরিক সভা ভার্চুয়াল করার জন্য সব মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ইউরোপের সঙ্গে ফ্লাইট সীমিত হবে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপে ছড়িয়েছে অল্প। ঢালাওভাবে ফ্লাইট বন্ধ করতে পারব না। যে ১৫/২০ দেশে ছড়িয়েছে তাদের ব্যাপারে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভ্যাকসিনের ১০ কোটি ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে। স্কুলছাত্র, বস্তিসহ সকল পর্যায়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে। গতবার কোয়ারেন্টাইনের সময় অনেকে হোটেলে থাকেনি এই বিষয়ে শক্ত হওয়ার জন্য বলেছি। অনেকে টিকা নেয়নি। আগ্রহ কমে গেছে। তাই তারা সরকারি সেবা পাবে না।
ষাটোর্ধ্ব অত্যন্ত অসুস্থ তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার চিন্তা চলছে। বিমানবন্দরে পিসিআর, র্যাপিড টেস্ট জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেল্টা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়েছে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই না ফের হোক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে সবকিছু নাই। সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। আবার যেন লকডাউন না হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে করোনা পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ নাই। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ফি মওকুফ করা হবে। ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন চলবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সভা সমাবেশ সীমিত করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। আফ্রিকায় প্রথম মিউটেশন হলেও করোনাভাইরাসের এ ভ্যারিয়েন্ট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইউরোপ আমেরিকায়। এরই মধ্যে এশিয়াও বেশ কিছু দেশে শনাক্ত হয়েছে এ প্রকৃতি। বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ওমিক্রন ঠেকাতে সকলকে স্বাধ্যবিধি মানতে হবে, গণজমায়েত না করতে বিশেষ তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, দেশে করোনার প্রকোপ কমায় যে ঢিলেঢালাভাব চলে এসেছে নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে তা আবারো কঠোর নিয়ন্ত্রণে হবে।





