টেকনাফে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে জনজীবন বির্পযস্থ হয়ে পড়েছে। গত ২ জুলাই মঙ্গলবার হতে টাকা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বসের আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু পাহাড়ের খাঁজে ভাঁজে ও পাদদেশে বসবাসরতরা চরম আতংকে থাকলেও এখনো সেখান হতে অন্য কোথাও নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে না কেউ। ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার হত দরিদ্র স্থানীয় ও রোহিঙ্গা পরিবার।
জানা যায়, টেকনাফের সদর ইউনিয়ন, পৌর সভা, বাহার ছড়া, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং এলাকায় বনাঞ্চল রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার একর বা ১২ হাজার হেক্টর। ৩ টি রেঞ্জে ভাগ করে ১০ বিটের মাধ্যমে দেখভাল করছেন বন বিভাগ। সরকার টেকনাফের পাহাড় গুলোকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষনা করছে। এরপরও সরকারী সংরক্ষিত বন বিভাগের জমিতে কয়েক হাজার বসতি গড়ে উঠেছে। স্থানীয় হত দরিদ্র লোকজন ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গারা মিলে এসব বসতি গুলোতে বসবাস করছে। এর বাইরে সরকারী সম্মতিতে হোয়াইক্যং এর উনছিপ্রায় পুটিবনিয়া, হ্নীলার লেদা, মৌচনী ও শালবাগানসহ বেশ কটি পাহাড়ে মিয়ানমার হতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পও গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যেও অনেকে পাহাড়ের ঝুকিঁর্পূণ এলাকায় বসবাস করছে।
টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন জানান, ইতিমধ্যে ১০৫ টি পরিবারকে পাহাড়ের ঝুকিঁর্পূণ এলাকা হতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাগরে নিম্ন চাপের সংকেত ও অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধ্বসের আশংকা থাকায় মাইকিং করা হয়েছে। যাতে পাহাড়ে ঝুকিঁপূর্ণ অবস্থায় বসতি গড়ে যে সব পরিবার রয়েছে তারা সরে আসে। তা না হলে ফের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
তিনি আরো জানান, গত দু বছর ধরে টেকনাফের বেশ কিছু পাহাড়ে মিয়ানমার হতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ক্যাম্প গড়ে তোলায় এ মুহূর্তে টেকনাফের পাহাড়ে ঠিক কত পরিবার অবৈধ ভাবে বসতি গড়ে তুলে অবস্থান করছে তার পরিসংখ্যান নেই।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা কোন নিয়মনিতী না মেনে পাহাড়ী গাছপালা গুলো কেটে বিলীন করার পর নিজের ইচ্ছামত বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। বর্তমানে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ে প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এই রোহিঙ্গারা যে কোন সময় পাহাড়-ধ্বসের কবলে পড়তে পারে। এতে প্রানহানি হওয়ার আশংকা রয়েছে। আবার এই রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি প্রায় এক হাজার স্থানীয় পরিবার ভূমিধ্বসের শিকার হওয়ার আশংকায় রয়েছে। এদের আর কোথাও মাথা গোজাাঁর ঠাই না থাকায় হতদরিদ্র স্থানীয় জনগোষ্টিদের মধ্যে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করে আসছে। টেকনাফে গত মঙ্গলবার ২ জুলাই হতে টানা বৃষ্টিপাত ও থেমে থেমে ভারীবর্ষন হচ্ছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টেকনাফ নাইট্যং পাড়া পাহাড়ে বসবাসরত ফরিদ আলম, হামিদ আহমদ ও দিল মোহাম্মদ বলেন, বাড়ী ঘর ফেলে অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তাই মরতে হলেও এখানে থাকা ছাড়া উপায় নেই। তারা মনে করেন, সরকার যদি ভূমিহীন পরিবার হিসেবে কোথাও জমি দান করে বা আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় নিয়ে র্পূনরবাসন করতো তাহলে আর এমন চরম ঝুকিঁর মধ্যে থাকতে হতো না।
টেকনাফ পৌর সভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার ও আওয়ামীলীগ নেতা আবু হারেস বলেন, টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের পেছনে শত শত পরিবার ঝুকিঁর্পূণ ভাবে পাহাড়ে বসবাস করছে। বারবার সরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তা শুনছে না কেউ।
এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রবিউল হাসান সাংবাদিকদের জানান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় টেকনাফে পাহাড় ধ্বসের আশংকা কম। কারন আগে পানি জমে থাকতো, এখন পানি সরে যাওয়ার প্রর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও পাহাড়ী এলাকায় যারা ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে তাদের সরিয়ে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হবে বলেও জানান তিনি।





