সিনথিয়া মিম। বয়স ১০ বছর। এবার চতুর্থ শ্রেণিতে উঠছে। বাবার সাথে তার বোনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকায় বেড়ানো শেষে কসবা রেলওয়ে স্টেশন থেকে নোয়াখালী গামী আন্তঃনগর উপকূল ট্রেনে উঠেন তারা । ঢাকা বিমানবন্দর থেকে বগুড়ায় যাবেন তাদের নিজ বাড়িতে। বাবা মেয়ে বসে আছে ট্রেনের সিটের মধ্যে কিন্তু সঙ্গে খাঁচায় রয়েছে একটি টিয়া পাখি। তার চলছে আবার নানা পরিচর্যাও। যেখানে স্বাভাবিকভাবে উড়াল দিয়ে পাখি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উড়ে বেড়ায়। সেখানে অনেকটাই ব্যতিক্রম। খাঁচায় বসে পাখি ট্রেনে চলে বেড়াতে যাচ্ছে। জানালার পাশে তারা রেখেছেন খাঁচাটাকে। ভ্রমণকারী ট্রেন যাত্রীরাও দু’চোখ ভরে দেখছেন পাখিটাকে। পাখি ভ্রমণ নিয়ে পাশে থাকা অনেকেই কথা বলেছেন তাদের সাথে। পাশাপাশি বসা পাখি দেখছে বাইরের দৃশ্যও । মাঝে মাঝে ডানা ঝাপটাচ্ছে। কিচিরমিচির করছেন। তাছাড়া খাঁচায় থাকা পাখির মিলছে ফলসহ অন্যান্য খাবারও।
নোয়াখালী গামী আন্ত:নগর উপকুল একপ্রেস ট্রেনের ঞ বগিতে ময়না পাখি নিয়ে বসে আছেন মো. কবির হোসেন । শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন ছাড়ার পর কথা হয় মো. কবির হোসেনের সাথে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তার কাছে জানা গেল সঙ্গে করে পাখি নিয়ে যাওয়ার কারণ।
তিনি জানান, তার দেশের বাড়ি বগুড়ায়। মেয়েকে নিয়ে বড় মেয়ের জামাই বাড়ি কসবায় বেড়াতে গিয়ে ছিলেন । সেখানে ৩ দিন থেকেছেন তারা। তার ছোট মেয়ে শখ করে অনেক দিন ধরে এই টিয়া পাখিটি লালন পালন করছেন। পাখিকে একা ফেলে সে কোথাও যেতে রাজি হয় না। সব সময় পাখিটাকে আগলে রাখতে চাই। তার একটি কথা বেড়াতে যেতে হলে সঙ্গে পাখিটাকে সঙ্গে নিয়ে নিতে হবে। তা না হলে সেও যাবে না। বাসার মধ্যে সারাক্ষণ পাখি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাই পাখি নিয়ে বেড়াতে আসা।
ট্রেন ও বাসের মধ্যে সে নিজেই পাখিকে খাবার দিয়েছে। তিনি বলেন, 'কেনার সময় আরো ছোট ছিল পাখিটা। বেশ যত্ন করে বাড়িয়ে তুলেছেন। সিনথিয়া মিম বলেন, মাও বাসায় নেই। এখন আমি যদি বাসায় পাখিটাকে রেখে বেড়াতে চলে যাই তাহলে পাখিটাকে কে যত্ন করবে। কে খাবার দিবে। খাবার না পেয়ে খুবই কষ্ট পাবে। সিনথিয়া মিমের বাবা কবির হোসেন বলেন, মেয়ের কথা রাখতে গিয়ে পাখিটাকে কষ্ট করে সঙ্গে আনতে হয়েছে। এই পাখিটার প্রতি এখন পরিবারের সবারই যেন একটা মায়া হয়ে গেছে। পাখিটা দেখে দেখে সে খাবার খাই। মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে পাখিটাকে দেখতে যায়। পাখিটা যেন পরিবারের অংশ হয়ে গেছে।





