প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে ডিপ্লোমেটিক জোনখ্যাত গুলশান-বনানী-বারিধারার আউটডোর বা স্ট্রিট ক্রাইম। হাজারো সিসি ক্যামেরা পাল্টে দিয়েছে চিত্র। এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের। ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা ঘটনার পর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। যদিও তার আগেই গুলশান থানা এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারির কাজ শুরু হয়েছিল।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিসি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি কার্যক্রম শুরু হয় এসব এলাকায়। গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সমিতির অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে বসানো হয়েছিল ১৩০টি ক্যামেরা। এক বছর পর ২০১৬ সালের মে মাসে এসব এলাকায় ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৬৭৫টি। বর্তমানে ১১৫৩টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে।
গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির (ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটি বা এলওসিসি) সহায়তায় ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়। এজন্য সাধারণ বাসিন্দাদের কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়নি। এলাকাভিত্তিক সমিতিগুলোই এসব ক্যামেরা দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগগুলোতে খুঁটি বসিয়েও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়।
গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনের পাশাপাশি আবদুল্লাহপুর থেকে সোনারগাঁ ক্রসিং, কুড়িল উড়ালসড়ক থেকে রামপুরা সেতু, মহাখালী থেকে তেজগাঁও ও তেজগাঁও থেকে গুলশান লিংক রোড পর্যন্ত বিস্তৃত এসব সিসি ক্যামেরার পরিধি।
প্রথমে গুলশান থানায় স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে নজরদারি করা হতো। স্থান সংকুলান না হওয়ায় পরে গুলশান ২ নম্বরের পুলিশ ফাঁড়িতে বড় পরিসরে নিয়ন্ত্রণকক্ষ গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে গুলশান জোনের সহকারী কমিশনারের অফিসে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সাড়ে ১১শ সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সিসি ক্যামেরাগুলোর সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পর এসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ করে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাগুলো অনেকাংশেই কমে গেছে। শুধু অপরাধই নয়, যানজট নিয়ন্ত্রণসহ বহুমাত্রিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্যামেরাগুলো। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ক্যামরায় ছবি দেখে সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে অপরাধীকে। অপরাধীর ব্যবহূত যানবাহনের নাম্বার প্লেটের ছবি দেখেও ধরা হচ্ছে অপরাধীকে। আবার যে কোনো ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি মনিটরিং করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে। ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারি করছে ৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে নিয়োগকৃত ৩ জন প্রকৌশলী আছেন রক্ষণাবেক্ষণের কাজে। এলওসিসি এবং পুলিশের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় এই কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।
ডিএমপির ডিপ্লোমেটিক জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আশরাফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ডিপ্লোমেটিক জোনে বিপুলসংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপিত হওয়ার বিভিন্ন সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে এসব এলাকার অপরাধ বিশেষ করে স্ট্রিট ক্রাইম যেমন চুরি, ছিনতাই, পিকেটিং-এর মতো ঘটনাগুলো কমে গেছে উল্লেখযোগ্যহারে। আবার ইনডোর ক্রাইম করেও নজরদারির বাইরে থাকতে পারেছ না অপরাধী। কারণ ঘরে অপরাধ করলেও তাকে বাইরে বের হতেই হচ্ছে। আর বাইরে বের হলেই সে সিসি ক্যমেরার আওতার মধ্যে চলে আসছে। পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরো বলেন, আগে এসব এলাকায় ভিখারিদের যথেষ্ট উৎপাত ছিল। এখন তা একেবারেই বন্ধ। সিসি ক্যামেরার সংখ্য বৃদ্ধি করে মনিটরিংয়ের আওতা আরো বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, গুলশান বারিধারা এলাকায় এখন আর কোনো চুরি ছিনতাই হয় না। কারণ ওই এলাকাগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায়।





