ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক একজন উদারচিন্তক কবি, টিভি আলোচক, বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত, শিক্ষক, লেখক, গবেষক, সমাজসংস্কারক ও শিক্ষাবিদ। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। লেখালেখির মধ্যে যখন তিনি ডুবে থাকেন, তখন কোন দিক দিয়ে রাত চলে যায় তা তিনি টের পান না। মানুষ নিজ সন্তানাদির যেরূপ যত্ন নেয়, উনি সেইভাবে বইয়েরও যত্ন নেন। যা খুব কম মানুষই করে থাকে বলে আমার বিশ্বাস। এই বইই হয়ত তাঁর জীবনের সফলতার মূলমন্ত্র। তাঁর প্রতি মানুষের ভালবাসাই প্রমান করে যে, ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক সত্যিই একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। জ্ঞানের অনেক শাখাতেই রয়েছে তার অবাধ বিচরণ।
উনি যে শুধু কুরআন হাদিসের জ্ঞান রাখেন তাই নয়, তার অর্জিত জ্ঞান ভাণ্ডারে রয়েছে জ্ঞানের অসংখ্য শাখা। তার বর্ণাঢ্য জীবনে যে মেধার স্ফুরন ঘটেছে, সত্যিই তাতে অভিভূত হতে হয়। তার শারীরিক গঠন ও পোশাক পরিচ্ছদ দেখে দুর থেকে অনুমান আর বাস্তবতা ভিন্ন। যে কোনো বিষয় নিয়ে তার সাথে আলোচনা করলে পরিমাপ করা যায় তার জ্ঞানের পরিধি।
পারিবারিক, শিক্ষা ও কর্মজীবন:
ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলাধীন বহুতি গ্রামের খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. রেফাজুল ইসলাম খান বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্ট মাস্টার ছিলেন এবং মা রহিমা খান একজন গৃহিনী। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
আব্দুর রাজ্জাক এর বাল্যশিক্ষা শুরু হয় বহুতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এর পর ১৯৭৭ সালে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার তৎকালীন বিখ্যাত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলাম নগর দারুস সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং এ মাদ্রাসা হতে ১৯৮৪ সালে ১ম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে দাখিল, ১৯৮৬ সালে বগুড়ার নামুজা সিনিয়ার মাদ্রাসা হতে আলিম ও ১৯৮৮ সালে সিরাজগঞ্জ হাজী আহাম্মাদ আলী আলীয়া মাদ্রাসা হতে ফাজিল পাশ করেন। অতঃপর তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলকুরআন বিষয়ে ১৯৯০ সালে ব্যাচেলর অব থিওলজি (অনার্স) এবং ১৯৯১ সালে মাস্টার্স অব থিওলজি ডিগ্রি অর্জন করেন। একাধিক বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে প্রথমে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদের আরবি সাহিত্যে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করেন। তবে বিশেষ কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলেও হাল না ছেড়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা অনুষদের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়ে আবার মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে তার ইচ্ছা পূরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি আরো যেসব বিষয়ে লেখাপড়া করেন তা হলো- এল এল.বি, কামিল (এম. এম), ইংরেজি সার্টিফিকেট (ব্যাচেলর) কোর্স। সবশেষে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।
তার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৯৩ সালে গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে। এরপর তিনি ১৯৯৪ সাল হতে অদ্যাবধি সিরাজগঞ্জের মওলানা ভাসানী কলেজে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ছাড়া তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ২০০১ সালে রাশিদাজ্জোহা মহিলা কলেজে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে এবং ২০০৫ সালে সিরাজগঞ্জ কলেজে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে যোগদান করে দক্ষতার সাথে পাঠদান করেন।
শিক্ষার ইসলামীকরণ ও ইসলামী শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার প্রত্যয়ে তিনি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, ক্যাডেট মাদরাসা ও হিফজ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এলাকাবাসী যার সুফল অদ্যাবধি পেয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সিরাজগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টি ও ফলাফলের শীর্ষে অবস্থানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল ইসলাম মডেল মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
শিক্ষকতা পেশায় আসার পূর্বেই তিনি আধুনিক আরবি ভাষায় উচ্চতর দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘জামিইয়্যাতুল উখওয়াহ আল-বাংলাদিশিয়্যাতুস সৌদিয়্যাহ’হতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে National Training & Research Academy for Multilingual Shorthand হতে তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানের অন্যতম হাতিয়ার কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ক প্রশিক্ষণ Teacher`s Training course for Higher Secondary Syllabus on Computer Science গ্রহণ করেন।
কর্মকাণ্ড:
তিনি সর্বদা মানুষকে ইসলামমুখী করার ব্যাপারে সচেষ্ট। মানুষের ইসলামী উন্নতির চিন্তা করেন। এজন্য তিনি এলাকার মুসলামানদের ইসলামী শিক্ষাকে সহজ করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলাম-শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। এক্ষেত্রে তিনি ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্যই পৃথকভাবে পর্দার সাথে ইসলামী শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও সাধারণ শিক্ষিত মানুষদের ইসলামী জ্ঞান লাভ সহজ করার লক্ষ্যে সুন্দর ও সাবলীল বাংলা ভাষায় বেশ কিছু বই-পুস্তক রচনা করেছেন। সাধারণ মানুষের মাঝে যুগ যুগ ধরে চলে আসা শির্ক, বিদআত, কুসংস্কারসহ প্রচলিত ভুলসমূহ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে ও পরিশুদ্ধ জীবন যাপনে এ বইগুলো বেশ কার্যকরী ভুমিকা রাখে বলে অনেকেরই বিশ্বাস। সহীহ আমল-আকিদা ও সমাজসংস্কারে যেগুলোর মূল্য অপরিসীম।
বিত্তবান মুসলিমদেরকে হজ ও যাকাত আদায়ে উদ্বুদ্ধকরণ, বিনামুল্যে প্রতি বছর হজ প্রশিক্ষণ প্রদান, মুসলিম, অমুসলিম নির্বিশেষে সকল অভাবী মানুষের পাশে নিজে দাঁড়াতে ও অন্যকে এর গুরুত্ব অনুধাবনে তিনি সর্বদাই সচেষ্ট। তিনি একটি কথা প্রায়ই বলে থাকেন, “মসজিদ উন্নয়নের চেয়ে মুসল্লির উন্নয়ন করা বেশি জরুরি।”তার মধ্যে একটি চিন্তা সবসময় সক্রিয়, তা হলো: সমাজের মানুষের পরিবর্তন দরকার, বিশেষ করে মহিলাদের। কেননা তারা ঠিক না থাকলে তাদের দ্বারাই সবচেয়ে বেশি ফেতনা সৃষ্টি হয়। তাদেরেকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দিতে পারলে অতি সহজেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। তাদেরকে খারাপ পরিবেশ থেকে বাঁচিয়ে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করা দরকার। এ উদ্দেশ্যে তিনি ও তাঁর সহধর্মিনী কাজ করে যাচ্ছেন।
এজন্য তিনি মসজিদে নিয়মিত মাসিক মাহফিলের পাশাপাশি বার্ষিক মাহফিলের আয়োজন করেন। তিনি নিজে বা তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে মাহফিলগুলোর মাধ্যমে মানুষের মাঝে ইসলামী সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও স্থানীয় আলেম ও ইমামগণকে নিয়ে ইসলামী ইজতিমার আয়োজন করেন। ইসলাম প্রচারে তার বহুমুখী পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ :
ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা
কওমি ও আলিয়া ধারার সমন্বয়ে যুগোপযোগী যোগ্য আলেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে তার যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে দারুল ইসলাম মডেল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি এখন সিরাজগঞ্জের সচেতন মানুষের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত। আগের দিনে সাধারণত দেখা যেতো যে, সমাজের দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই তাদের সন্তানকে মাদরাসায় পড়াতো। এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর সে চিত্রটি পাল্টে গেছে। এখানে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের আনাগোনা খুবই কম। দরিদ্র মা-বাবা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার যোগান যথাযথভাবে না দিতে পারায় তাদের সন্তানেরা কাঙ্খিত মানে পৌঁছতো না। নামমাত্র লেখাপড়া শিখেও তারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকত। মসজিদের খাদেম ও মুআজ্জিন হিসেবে চাকরি নিয়ে প্রভাবশালীদের করুণার দিকে তাকিয়ে থাকত। ইমাম হিসেবে নিয়োগ লাভ করেও হক কথা বলার সাহস পেতো না। কারণ উচিত কথা বললে চাকরিটা যদি চলে যায়। তার অর্জিত বিদ্যা দিয়ে তো সমাজে অন্য কোথাও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তাই অসৎ লোকদের মন যুগিয়েই তাদেরকে চলতে হয়। যা একজন প্রকৃত ঈমানদারের পরিপন্থী; অথচ উনি হলেন ইমাম। আমরা জানি ইমাম মানে নেতা। আর এই অচল লোকেরা ইমাম হয়ে ইমামের সংজ্ঞা পাল্টে গিয়ে ইমাম হলো গোলাম। তাও আবার অসৎ লোকদের গোলাম। আলেমদের এ দৈন্যদশা হতে মুক্তির লক্ষ্যে তিনি সমাজের নেতৃস্থানীয় লোকদের সন্তানদেরকে মাদরাসা পড়ার প্রতি উৎসাহ যুগিয়ে এই দৈন্যদশা ঘুচানোর ব্যাপারে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছেন। এখান থেকে পাস করা ছাত্ররা কারও করুণার পাত্র নয়। বরং তারাই করুণা করতে জানে। তারাই এখন সমাজে রোল প্লে করতে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।
সামাজিক কর্মকাণ্ড
স্বল্পশিক্ষিত ও দুঃস্থ মহিলাদের আত্নকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাদেরকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা ও সমাজের অশিক্ষিত দরিদ্র লোকদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য তাদের মাঝে রিকসা বিতরণ করা এ লোকটির সমাজসেবামূলক কাজের একটি উজ্জল নিদর্শন। অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, সামর্থ্যানুযায়ী সেবা দেবার জন্য উনি সচেষ্ট। দরিদ্র রোগীদেরকে ঔষধ কিনে দেয়া তার স্বভাব।
ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা
কওমি ও আলিয়া ধারার সমন্বয়ে যুগোপযোগী যোগ্য আলেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে তার যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে দারুল ইসলাম মডেল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি এখন সিরাজগঞ্জের সচেতন মানুষের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত। আগের দিনে সাধারণত দেখা যেতো যে, সমাজের দরিদ্র শ্রেণির লোকেরাই তাদের সন্তানকে মাদরাসায় পড়াতো। এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর সে চিত্রটি পাল্টে গেছে। এখানে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের আনাগোনা খুবই কম। দরিদ্র মা -বাবা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার যোগান যথাযথভাবে না দিতে পারায় তাদের সন্তানেরা কাঙ্খিত মানে পৌঁছতো না। নাম মাত্র লেখাপড়া শিখেও তারা সমাজের বোঝা হয়ে থা কত। মসজিদের খাদেম ও মুআজ্জিন হিসেবে চাকরি নিয়ে প্রভাবশালীদের করুণার দিকে তাকিয়ে থাকত।ইমাম হিসেবে নিয়োগ লাভ করেও হক কথা ব লার সাহস পেতো না। কারণ উচিত কথা বললে চাকরিটা যদি চলে যায়। তার অর্জিত বিদ্যা দিয়ে তো সমাজে অন্য কোথাও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তাই অসৎ লোকদের মন যুগিয়েই তাদেরকে চলতে হয়।যা একজন প্রকৃত ঈমানদারের পরিপন্থী; অথচ উনি হলেন ইমাম। আমরা জানি ইমাম মানে নেতা। আর এই অচল লোকেরা ইমাম হয়ে ইমামের সংজ্ঞা পাল্টে গিয়ে ইমাম হলো গোলাম। তাও আবার অসৎ লোকদের গোলাম। আলেমদের এ দৈন্ যদশা হতে মুক্তির লক্ষ্যে তিনি সমাজের নেতৃস্থানীয় লোকদের সন্তানদের মাদরাসা পড়ার প্রতি উৎ সাহ যুগিয়ে এই দৈন্যদশা ঘুচানোর ব্যাপারে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছেন। এখান থেকে পাস করা ছাত্ ররা কারও করুণার পাত্র নয়। বরং তারাই করুণা করতে জানে। তারাই এ খন সমাজে রোল প্লে করতে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।
সামাজিক কর্মকাণ্ড:
স্বল্পশিক্ষিত ও দুঃস্থ মহিলাদের আত্নকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাদেরকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা ও সমাজের অশিক্ষিত দরিদ্র লোকদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য তাদের মাঝে রিকসা বিতরণ করা এ লোকটির সমাজসেবামূলক কাজের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
দৃষ্টিভঙ্গি:
· ইলমবিহীন আমলওয়ালা ব্যক্তি ট্রেনিংবিহীন চালকের মতো
· আমলের চেয়ে আকিদাকে অধিক গুরুত্বদান
· তাকওয়াবিহীন আমল অন্তঃ সারশূন্য অনুশীলন মাত্র
· মাযহাবসহ সকল বিষয়ে মধ্যমপন্থা
· কুরআন-হাদিসসহ সকল ইলমি বিষয়ে সরাসরি অধ্যয়নে উৎসাহ দান
· আল্লাহ ও বান্দার মাঝে অন্য কারও দ্বারা মধ্যস্থতাকে শিরক বলে গণ্য করা
· ইসলামী রাজনীতিকে গণতন্ত্র বলে উল্লেখ করা
· মুমিনের জীবনে কোনো হতাশা নেই, হারাবার কিছু নেই
সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড:
বাল্যকাল থেকেই তিনি কাব্য ও সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। শিক্ষাজীবনের মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। তার লেখা কবিতা ও গান বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উজ্জীবিত করে রাখত। ‘ রক্ত কথা বলে’ নামক কাব্য গ্রন্থটির অধিকাংশই ওই সময়ের লেখা। তার লেখা শিশু সাহিত্যমূলক ২টি বই জাপানি ভাষায় অনুবাদ হয়ে প্রকাশের পথে।
তিনি খুব সহজসরল ভাষায় আলোচনা করেন। আলোচনা ও লেখনীতে অনেক কঠিন ও জটিল বিষয়কে সহজ-সরল বাংলায় সর্বসাধারণের বোধগম্যভাবে উপস্থাপন করেন। সমাজ সংস্কার, শিরক, বিদআত, সমকালীন প্রসঙ্গ, সামাজিক ও পারিবারিক বিষয়সহ জীবন ঘনিষ্ঠ প্রয়োজনীয় বিষয় সহজ ও সাবলীলভাবে আলোচনা করেন।
রচিত গ্রন্থাবলি (প্রকাশিত):
ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক–এর রচিত, অনূদিত ও সম্পাদিত প্রকাশিত গ্ রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
ইংরেজি ভাষায়:
· Forty Hadith in three languages
· Learning Hadith for Children in three languages
· Dua and munajat taught by Allah Himself
বাংলা ভাষায়:
· বাংলা তাফসীর কুরআনুল কারীম
· বিষয়ভিত্তিক কুরআন ও সহীহ হাদীস সংকলন-১
· বিষয়ভিত্তিক কুরআন ও সহীহ হাদীস সংকলন-২
· প্রচলিত ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন-১
· প্রচলিত ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন-২
· আল্লাহর অভিশাপ যাদের ওপর
· খাদিজা (রা.)
· র্শিক বিদ‘আত ও কুসং স্কারমুক্ত হজ্জ
· মাহে রমযান বিষয়ক ১০০ ভুল ও সমাধান
· Quranic Studies (স্নাতক পাস কোর্সের সিলেবাস)
· আল-হাদীস (স্নাতক পাস কোর্সের সিলেবাস)
· রক্ত কথা বলে (কাব্য গ্রন্থ)
· মুমূর্ষু ও মৃত ব্যক্ তিদের জন্য জীবিতদের করণীয় ও বর্জ নীয় আমল
· ঈদ বিষয়ক প্রচলিত ভুল ও সমাধান
· কুরবানি বিষয়ক প্রচলি ত ভুল ও সমাধান
প্রকাশের পথে:
· উপেক্ষিত আমল
· আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ আমল
· গুনাহ পাফের উপায়
· মহানবি স. এর দৃষ্টিতে কে শ্রেষ্ঠ? কী শ্রেষ্ঠ?
· মুত্তাকি’র প্রচলিত ও প্রকৃত পরিচয়
· معرفة القرآن في السؤال والجواب
· যাকাত বিষয়ক প্রচলিত ভুল ও সমাধান
· Quranic Knowdge
তার লেখা বইগুলো শুধু বাংলাদেশে নয়, বিদেশেও সমাদৃত ।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান:
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন ছোট্ট শিশু, তার দুই ভাইয়ের বয়সও তখন যুদ্ধে যাবার মতো ছিল না। তবে ঐ সময়ে তার বাবা জনাব মো. রেফাজুল ইসলাম খান ও তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা বাহিনী তথা 'পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবির' (সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার ভদ্রঘাট ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত)-এর সদস্যদেরকে (মুক্তিযোদ্ধাদেরকে) খাদ্য ও রসদ সরবরাহ করতেন।
লেখক: অধ্যাপিকা ফয়জুন নাহার
একটি মহিলা ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক
faizunsimc@gmail.com





