রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তিন জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী, পপি ও অপু বিশ্বাস।
চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঘটনার অবশ্যই সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। ধর্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোর শাস্তির দেওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘শুধু এ ঘটনাই নয়, দেশজুড়ে অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এর বিচার যদি কঠোর ও দ্রুত কার্যকর করা হয়, তবে এসব ঘটনা কমে যাবে।’ ‘যারা এই নোংরা কাজগুলো করছে তাদের মুখোশ খুলে দিতে হবে। কোনোভাবেই তাদের ছাড় দেওয়া উচিত না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
আরেক নায়িকা পপি বলেন, ‘এভাবে আর কত! ধর্ষকরা ছাড় পায় বলে দেশে বারবার এমন ঘৃণিত কাজটি হচ্ছে। অপরাধীরাও সাহস পাচ্ছে। যেকোনো সময়, যেকোনো মেয়ে এমন ঘটনার শিকার হতে পারে। আমি এসব ঘটনার কঠোর শাস্তির দাবি করছি। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক। যাতে তাদের দেখে অন্যরা ভয় পায়।’
অপু বিশ্বাস বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার হন। এটা খুব দুঃখজনক। কিন্তু এর প্রতিকার হতে হবে। ধর্ষকদের এমন কোনো মর্মান্তিক শাস্তি দেওয়া উচিত, যা দেখে অন্যরা এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে সাহস পাবে না। ধর্ষকদের মনে ভয় জন্মাবে। ধর্ষকদের ওপেন প্লেসে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। এত প্রতিবাদ সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না! কোনো মা, কোনো বোন, কোনো কন্যা ধর্ষিত হয়েছে, মানুষ হিসেবে এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে?’
উল্লেখ্য, ক্লাস শেষে ক্যাম্পাস থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে রোববার রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন। এরপর সোমবার সকালে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে যাওয়ার পথে একটি ঝোপের মধ্য থেকে ভিকটিমের বই, ঘড়ি, ইনহেলার ও চাবির রিংসহ বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. ডা. সোহেল মাহমুদ।
এদিকে ধর্ষণের বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ঘটনার দিন রাতেই ধর্ষকদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, রাজধানীর কুর্মিটোলায় বান্ধবীর বাসায় যেতে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠেন ওই ছাত্রী। বাস থেকে কুর্মিটোলা এলাকায় নামার পর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তার মুখ চেপে ধরে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়। রাত ১০টার দিকে চেতনা ফেরার পর তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যান। বান্ধবীকে ঘটনা জানান। এরপর সহপাঠীরা তাকে আবাসিক হলে নিয়ে আসেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।





