তরুণ ব্যবসায়ির মহৎ উদ্যোগ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

তরুণ ব্যবসায়ির মহৎ উদ্যোগ

দিনে ঘরে বসে প্যাকেট করেন রাতে অসহায়ের ঘরে পৌঁছে দেন 

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ৮ মে, ২০২০

দিনভর ঘরে বসে খাদ্য সামগ্রী মেপে মেপে প্যাকেটকরণের কাজ চলে। আর সন্ধ্যার পর তা নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহামারিতে খাদ্য সংকটে পড়া অসহায় গরীব দুস্তদের মাঝে বিতরণ করেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের  ৪ নং ওয়ার্ডের ধনুয়া মধ্য পাড়া গ্রামের মৃত বেলাল উদ্দিনের ছেলে তরুণ রেস্তুরা ব্যবসায়ি  সাদ্দাম হোসেন অনন্ত।

নিজের গ্রামের গরীবসহ আশপাশের কিছু গ্রামেও তা বিতরণ করা হয়। অনেক সময় অতি গরীব অসহায়রা বাড়ি থেকেও এসে খাদ্য পন্য নিয়ে যান। এত মধ্যেই বিভিন্ন সময়ে  চারশতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করেন এই মানব সেবক।

তিনি খোঁজ খবর  নিয়ে মধ্যবিত্তের  ঘরেও খাবার পৌঁছে দেন রাতের বেলায়।

ব্যবসায়ি  সাদ্দাম হোসেন অনন্ত এরই মধ্যে এলকার বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষসহ তরুণদের প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছেন।  নিয়মিত করছেন বিভিন্ন সামাজিক কাজ কর্ম।


সাদ্দাম  হোসেন অনন্ত জানান, বিশ্বে এখন করোনা ভাইরাস ( কোভিট-১৯) আক্রান্তে মানুষ দিশেহারা। অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে উন্নত বিশ্বেও। কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ কর্মজীবী  মানুষ। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে সে সংকট আরো প্রকট। আমাদের দেশে কর্মহীন নিত্য খেটে মানুষ অনেক বেশি। প্রায় দেড় মাস ধরে অঘোষিত লকডাউন চলছে। এতে কর্মহীনরা  দিশেহারা হয়ে পড়েছে।  পড়েছে খাদ্য সংকটে। তিনি বলেন করোনাকাল শুরু হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই আমাদের গ্রামসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের অসহায় খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য খাদ্য ব্যবস্থা করেছি। নিজে নিজে খোঁজ নিয়ে রাতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেই নিজেই।  অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আছে যারা এ দুর্যোগে লজ্জায় কারো কাছে হাত পাততে পারেন না। খোঁজ নিয়ে তাদের জন্য খাদ্যপন্য  বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি। তিনি এ ক্রান্তিকালে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে আহবান করেন। রমজানে ও করোনাকালে নিয়মিত সহায়তার কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি জানান।

প্রতিবেশিরা জানান, সাদ্দামরা দুই ভাই দুই বোন। সে সর্বকনিষ্ঠ।  বড় ভাই জৈনা বাজারে ইলেকট্রিক্যাল ব্যবসা করেন। সাদ্দাম রেস্তুরা ব্যবসা করেন।

তাঁরা জানান, ছোটকাল থেকেই সে মানবিক। অসহায় দেখলেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এর আগে বেশ কয়েকজন প্রতিবন্ধী ও ঘরহীন অসহায় নারীর বাড়ি করে দিয়েছেন। এক গরীব অসহায় নারীর শেষ ইচ্ছা পুরণে ওমরা হজ করিয়েছেন। মসজিদ মাদরাসায় দান করেন নিয়মিত।  


স্বজনরা জানান, দিনভর ঘরে বসে বসে খাদ্য সামগ্রী প্যাকেট করেন নিজেই। পরে রাতে নিজের গাড়ি নিয়ে বের হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সে বিতরণ করেন। অনেকে খবর দিলে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন।

তাঁরা আরো জানান, এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে। চাল, ডাল, লবন, আলু, পেয়াজ, সয়াবিন ও সরিষার তেল বিতরণ করা হচ্ছে। 

গাজীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ আবদুল আজিজ বলেন, সাদ্দাম হোসেন অনন্ত দানবীর মানুষ।  তরুণ ব্যবসায়ি সে। অন্যকে সহায়তা করে সে আনন্দ পায়। সে অনুকরনীয় স্বপ্নবাজ মানুষ।  তাঁকে দেখে যে কেউ উদ্বুদ্ধ হতে  পারে। সে সাধ্যমত হাত খুলে সহায়তা করেন গরীব অসহায়দের।  অনেক প্রতিবন্ধীদের  বসবাসের জন্য বাড়ি বানিয়ে দিয়েছেন। শীতে কম্বল কিনে দেয়। কেউ স্কুল কলেজে পড়তে অসুবিধায় পড়লে সহযোগিতা করে। তাঁর কাছে হাত বাড়ালে তিনি তাঁকে আনন্দ নিয়ে সহায়তা করেন। তরুণরা তাঁর খুব ভক্ত। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads