জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর বিদ্যালয় সুশিক্ষিত মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান। সেই মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অনিয়ম করছেন ক্ষুদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ক্ষমতার বলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায় করছেন। খারাপ আচরণ করছেন অধিনস্থ কর্মাচারীদের সাথে ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের সাথে। কিন্তু কেউ মুখ খোলে কোনো কথাই বলছেন না গত ২৭ বছর ধরে। তবে এবার মুখ খোলেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সামায়ুন কবির।
তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া তালুকদারের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমার কাছে। এছারাও জেলা প্রশাসক,মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেট,উপজেলা মাধ্যমিক অফিস,দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
লিখিত অভিযোগ ও খোঁজ নিয়ে জানাযায়,উপজেলার সদরের ১৯৮৮সালে প্রতিষ্টিত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। এর পর কলেজ শাখায় উন্নতি হয়। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২শত। প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া তালুকদার ১৯৯৭ সালে স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর থেকেই অদৃশ্য শক্তির বলে স্কুলে ও পরিবর্তিতে কলেজ শাখায় উন্নতি হলে
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জেএসসি,এসএসসি,এইছএসসি পাশের প্রত্যায়ন পত্র ও টি সি নিতে গেলে প্রতি ছাত্রীদের কাছ থেকে ১শত থেকে ২শত টাকা,৬ষ্ট শ্রেণিতে নতুন ভর্তি করতে গেলে বিনা রশিদে প্রতি ছাত্রীর কাছ থেকে ভর্তি ফরম ১শত দশ টাকা,একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করতেও ১শত ১০ টাকা,তালিকাভুক্ত উপবৃত্তি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানুয়ারী মাসের(১ মাসের) বেতন নিচ্ছেন। মিলাদ ও পূজা উপলক্ষেও বিনা রশিদে ৫০-১শত টাকা নিচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয় ও কলেজ শাখায় শ্রেণি কক্ষের সংকট থাকলেও তিনি গত দশ থেকে ১২ বছর ধরে দু তলা বিল্ডিংয়ে দুটি কক্ষ দখল করে নিজে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছেন। ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়েও নিজের মত সদস্যদের জানান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় শুরু থেকে পিয়নকে স্কুলের নির্ধারিত সময়ে বাহিরেও নিজের পরিবারের কাজে ও বাজারে সাথে নিয়ে বাজার করার জন্য। আর সেই বাজারও বহন করে পৌছে দেন। যা কোনো আইনেই পরে না। এছাড়াও ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তোজাম্মিল হক নাসরুম বলেন,এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের শেষ নেই। অনিয়ম করছেন কিন্তু এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে এই অনিয়মেই নিয়মে পরিনত হয়েছে।
ইন্টার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী লুনা বর্মনের পিতা করুনা বর্মন জানান,আমার মেয়ে পুজার জন্য ১শত টাকা নিয়ে কলেজে জমা দিয়েছে কিন্তু কোনো রিসিভ কপি দেয় না কলেজ থেকে। আমি এখন থেকে বিষয়টি নজরে রাখব। শুধু লুনা বর্মনের পিতাই নয় এরখম প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিবাবকে বক্তব্য।
এবিষয়ে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সামায়ুন কবির জানান,প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ শেষ নেই। তিনি বিদ্যালয়ের অর্থের হিসাবে নিকাশ কি ভাবে করেন জানতে চাইলে দিতে রাজি হন না। মিটিংয়ের রেজুলেশন ও দেখাতে চান না। মনগড়া সব কিছুই করছেন। ম্যানেজিং কমিটির মিটিং হয় আমাকে জানায় না জানতে চাইলেও তিনি জানান আপনাকে ছাড়াও ত মিটিং হয়েছে। তিনি অধক্ষ্য পদবি ব্যবহার করছেন তার কোন আইনগত বৈধতা নেই। আমি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগন যাচাই বাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এবিষয়ে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াহিয়া তালুকদার বলেন,আমি বিধি মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তেই আমি কক্ষে আমার পরিবার নিয়ে বসবাস করছই।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা জানান,অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





