সারা দেশ

তাহিরপুরে পর্যটন এলাকায় পর্যটক সরব না হলেও নীরব নয়

  • ''
  • প্রকাশিত ২৪ অগাস্ট, ২০২৪

 

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :


দেশের চলমান পরিস্থিতির মাঝেও, সরব না হলেও, নীরব নয়,সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কয়েকটি পর্যটন স্পষ্ট এলাকায়, আগত পর্যটক অহরহ। প্রকৃতি প্রেমীরা, প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে,সুযোগ পেলেই, শত প্রতিকূলতা ভেদ করে, সৌন্দর্য উপভোগ ছুটে এসেছেন পর্যটন এলাকায়। তার মধ্যে কিছু কিছু পর্যটক গ্রুপ নৌ পরিবহনে নিয়ে আসেন, বাউল গানের গায়ক-গায়িকা। টাংগুয়ার হাওর বা পাশ্ববর্তী এলাকায় রাত্রি যাপন কালচলে বাউল গানের আসর। সুমধুর কণ্ঠে গানের আসর জমে উঠে । তীরে থাকা উপস্থিত দর্শকরা, সাউন্ড বক্সের শব্দের তালেতালে, আনন্দে মেতে উঠে, নেচে-গেয়ে কাটান সারারাত, দিনের বেলায় তাদের পদচারণায় স্পষ্ট গুলো মুখরিত হয়ে । নদী কিংবা হাওরের বুকে রঙ্গিন নৌপরিবহন গুলো যখন সারিবদ্ধ হয়ে চলে, মনে হয় হাওরের পাদদেশে রেললাইনের উপরে ট্রেন চলছে। নীলাদ্রি লেক, কিংবা টাংগুয়ার ওয়ার্চ টাওয়ারে যখন সকল নৌকা বেধে রাখে মনে হয় হাওরের পাদতলে শহরের রুপ।


উপজেলার উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি পর্যটন স্পষ্ট রয়েছে , টাংগুয়ার হাওর, বারেক টিলা, নীলাদ্রি লেক, শিমুল বাগান, লাকমাছড়া, লাল শাপলা হাওর, মেঘালয়ের উঁচু উঁচু পাহাড়, সীমান্ত থেকে বেড়িয়ে আসা যাদুকাটার স্বচ্ছ জলের নদী, প্রাকৃতিক এই অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসে আসা হাজার হাজার পর্যটক।


সুনামগঞ্জ, হাওর অঞ্চলের সাগরসদৃশ বিস্তীর্ণ জলরাশির এক অপরূপ মহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা নৌকায় বসে বিস্তীর্ণ নীল জলরাশির মায়ায় ভেসে বেড়াতে পারেন। হাওরের কোলঘেঁষে থাকা সীমান্ত নদী, পাহাড়, পাহাড়ি ঝরনা, হাওর-বাঁওড়ের হিজল, করচ, নল, খাগড়া বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নানা প্রজাতির বনজ, জলজপ্রাণী আর হাওর পারের বসবাসকারী মানুষের জীবন-জীবিকার নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন আগত পর্যটক।


মদন থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন,স্রষ্টার সৃষ্টির রহস্য বুঝা বড়দায়। কত রুপে, কত সাজে সজ্জিত করেছেন ধরনী। কোনো জায়গায় জল আর কোনো স্থল। জলের মাঝে বৃক্ষ রাজী, তরুলতা, জলজ উদ্ভিদের মাঝে মৎস্য পাখির করতালি। পাশেই বিশাল রয়েছে পাহাড়, যাহা কখনো দেখিনি, এমন সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ। তাই জ্ঞানী জনেরা বলেছেন, অচেনা কে জানার জন্য সুদূর চীনে যেতে পার তুমি । আসলেই সত্য, গৃহে বসে কিছু জানা যায় না।


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় আসতে হলে, ঢাকার সায়দাবাদ, ফকিরাপুল, কমলাপুর, মহাখালীর বাস টার্মিনাল থেকে, মামুন, এনা, শ্যামলী, হানিফসহ সুনামগঞ্জের স্থানীয় পরিবহনে আব্দুল জহুর ব্রীজে, নেমে
মটর সাইকেল, কিংবা সিএনজি যোগে তাহিরপুর উপজেলা সদর আসবেন। এর পর চা নাস্তা সেরে নিজের পছন্দ মতো পর্যটক বাহী নৌকা আলোচনা সাপেক্ষে, সমন্বয়ক ছাড়াই নিজেই ভাড়া করত পারবেন। আর বিশেষ প্রয়োজনে থানা ও উপজেলার সাথে যোগাযোগ করতেও পারবেন। পাশেই দূরে নয়, এসব আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অফিস। আপনার ভ্রমণ সুন্দর, স্বার্থক ও নিরাপদ হউক এই প্রত্যাশা রহিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads