দাগনভূঞায় সরকারি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত, প্রশাসন-জনপ্রতিনিধিরা আতঙ্কে

প্রতীকী ছবি

সারা দেশ

দাগনভূঞায় সরকারি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত, প্রশাসন-জনপ্রতিনিধিরা আতঙ্কে

  • দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ এপ্রিল, ২০২০

দাগনভূঞায় উপসর্গ ছাড়াই উপজেলা পর্যায়ের এবার একজন সরকারি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। সামাজিক সংক্রমণের আশংকায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২১ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এই কর্মকর্তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনা চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) পাঠানো হয়। বুধবার রাতে সেখান থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে তার শরীরে করোনা পজেটিভ আসে। এ খবর জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা হওয়ায় উদ্বেগ বেশি। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি জনপ্রতিনিধিদের সাথে দাপ্তরিক কাজে তার সংস্পর্শ থাকায় সামাজিক গণসংক্রমণ নিয়েও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র আরো জানায়, আক্রান্ত ওই কর্মকর্তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান দিদারুল কবির রতন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হোসেন ও তার স্ত্রী, পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান ও তার স্ত্রী, জায়লস্কর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মমামুনুর রশিদ মিলন সহ বেশ কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ইতিমধ্যে তাদের কোয়ারেন্টিন মেনে চলতে বলা হয়েছে।

পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান জানান, করোনায় আক্রান্ত সরকারি কর্মকর্তার সংস্পর্শে আসায় তিনি ও তার স্ত্রীর নমুনা আজ বৃহস্পতিবার সংগ্রহ করা হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, ওই কর্মকর্তার বাসা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। যারাই সংস্পর্শে এসেছেন তাদেের নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে তিরি জানান।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় বৃহস্পতিবারও অফিস করেছেন। তিনি কিভাবে সংক্রমিত হয়েছেন কিংবা তার সংস্পর্শে।কতজন সংক্রমিত হয়েছেন তা নিরুপন করা সম্ভব নয়। তার সাথে কথা বলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কাজ করছেন। সামাজিক সংক্রমণ হলে এটি উদ্বেগের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, ওই কর্মকর্তা পৌর শহরে ভাড়া বাসায় ব্যাচেলর থাকেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার পাহাড়তলি রেলওয়ে হাউজিং সোসাইটি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads