দাবদাহে কাজ করতে পারছেন না শ্রমজীবীরা

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

দাবদাহে কাজ করতে পারছেন না শ্রমজীবীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ এপ্রিল, ২০২১

রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে কাওরানবাজার সোনারগাঁও সড়কের ফ্লাইওভারের নিচে বসা রিকশাচালক আসলাম (৪৫)।  প্রচণ্ড দাবদহে যাত্রী নামিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। আসলাম জানান, প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরমে রিকশাচালক থেকে শুরু করে সবধরনের শ্রমজীবীরা অনেক কষ্টে থাকেন।

তিনি বলেন, যেভাবে দাবদাহ বাড়ছে তাতে করে রিকশা নিয়ে বাইরে বের হওয়া কষ্টের। আবার রিকশা নিয়ে বের না হলে পেটে কিছু যাবেনা। বুধবার রাতে বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি আসলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার পর থেকে আবারো দাবদাহ শুরু হয়।

জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে বইছে তীব্র দাবদাহ। আজও (বৃহস্পতিবার) দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চল দিয়ে দাবদাহ বইছে। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের কৃষক, দিনমজুর, ভ্যান-রিকশাচালক, নির্মাণ শ্রমিকের মতো নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা। রাজধানীর শ্রমজীবীরাও এর বাইরে নন। শ্রমজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই কদিন প্রখর রোদের মধ্যে প্রচণ্ড কষ্ট সয়েই তারা কাজ করছেন। রোদে কষ্ট হলেও তাদের কাজ ছেড়ে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ থাকে না। অবশ্য বুধবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষণিকের জন্য কিছুটা স্বস্তি মিললেও গরমের কষ্ট থেকে রেহাই মেলেনি। তীব্র রোদের মধ্যে মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় মাথার ওপর ছাতা চেপে নিয়মিত মাস্ক বিক্রি করেছেন মো. কবির। তিনি জানান, গত কয়েকদিন গরমে প্রচণ্ড কষ্ট হয়েছে। রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা নিয়ে বসেন। তারপরও গরমে টেকা দায় হয়ে যায়। ‘মাঝে মাঝে রোদ থেকে বাঁচতে ছায়ায় যেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু মালামাল রেখে যেতেও পারি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘গতকালের বৃষ্টির পর আজকে একটু গরম কম। সকাল থেকে আকাশে মেঘও আছে। তবে সবসময় মেঘের আড়ালে সূর্য থাকে না। যখন সূর্য উঠে, তখন সেই আগের মতো গরম লাগে।’

মিরপুর-১০ নম্বর থেকে মডেল থানার সামনে যাত্রী নিয়ে এসেছেন রিকশাচালক মো. আজিজুল। এসেই ১০ টাকা দিয়ে এক গ্লাস শরবত খান। এরপর রিকশায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখনো তার হাত দুটি ঘামে ভেজা। আজিজুল বলেন, ‘আমি প্রত্যেকদিনই রিকশা নিয়ে বের হই। কয়েক দিন ধরে অনেক গরম ছিল, অনেক পরিশ্রম হয়েছে, অনেক কষ্ট হয়েছে।’

গত রাতের বৃষ্টির পর গরম কিছুটা কম লাগছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গরম কম কী! গরম আছে। বেশিই আছে। আমরা তো তাপ বেশি পাইতেছি। রোদে থাকি। খ্যাপ বন্ধ থাকে না। তাপটা বেশি লাগে আমাদের।’

মিরপুর মডেল থানার সামনে ফুটপাতের কাজ করছিলেন তিনজন নারী শ্রমিক। তারা জানান, জীবনটাই কষ্টের। করোনার সময়ে কাজ করতে পারছেন এই বেশি। গরমে কষ্ট হলেও সেদিকে মন দেওয়ার সুযোগ তাদের নেই।

এই কয়েকদিনে গরম সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয়। এছাড়া রংপুর বিভাগে গরম তুলনামূলক কম চালালেও মোটামুটি সারা দেশেই বেশ তাণ্ডব চালিয়েছে ও চালাচ্ছে গরম। স্বাভাবিকভাবে সেসব অঞ্চলের মানুষেরও কষ্টের সীমা ছিল না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads