দুই বছরে রাজস্ব আদায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা

ফাইল ছবি

সারা দেশ

কুমিল্লার ১৩টি বালুমহাল

দুই বছরে রাজস্ব আদায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা

  • খায়রুল আহসান মানিক, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

কুমিল্লার বালুমহালগুলো থেকে দুই বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে সরকার। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এক কোটি ৬৬ লাখ ও ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তিন কোটি ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। যা পূর্বের অর্থবছর থেকে ৮০ শতাংশ বেশি। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বালুমহালগুলো ইজারা দিয়ে এ রাজস্ব আদায় করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। কুমিল্লার গোমতী, মেঘনা, পাগলী ও কাঁকড়ী নদীতে মোট ১৩টি বালুমহাল রয়েছে। এরমধ্যে সাতটি বালুমহাল গোমতী নদীর, যার ছয়টি অবস্থিত কুমিল্লা আদর্শ সদরে। বাকি অংশটি বুড়িচং উপজেলায়। মেঘনা নদীর কুমিল্লা অংশে আছে চারটি বালুমহাল। পাগলী নদীর বালুমহালটি বুড়িচং উপজেলায়, কাঁকড়ী নদীর বালুমহালটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত।

সূত্র মতে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৩টি বালুমহালের মধ্যে আটটির ইজারা হয়, পাঁচটি বালুমহালের ইজারা হয়নি। একই বছর এ ইজারাকৃত আটটি বালুমহালে রাজস্ব আদায় হয় এক কোটি ৬৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭০০ টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ইজারা হয় ১০টি বালুমহালের, ইজারা হয়নি তিনটির। এ বছর তিন কোটি ১৩ লাখ ৩১ হাজার ১৩৫ টাকা ইজারা আদায় করা হয়। মোট ইজারা আদায় হয় চার কোটি ৭৯ লাখ ৯৪ হাজার ৮৩৫ টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের তুলনায় এক কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৫ টাকা বেশি ইজারা আদায় হয়। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ৮০.০২শতাংশ বেশি। বালুমহালগুলো থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে আদায়কৃত রাজস্ব অন্য যে কোনো বছরের চেয়ে অনেক বেশি। এবছর ইজারা হওয়া বালুমহালগুলোতে ইজারাদার, ঠিকাদার ও শ্রমিকসহ যুক্ত আছে ১২ হাজার লোকবল। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দৈনিক ৮০০ টাকা। কর্মদক্ষতা অনুসারে কোনো কোনো শ্রমিক দিনে ১২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান। শ্রমিকদের বেশিরভাগের বাড়ি হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের ভৈরব এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায়।

সরেজমিনে কুমিল্লার গোমতী নদীর জালুয়াপাড়া, টিক্কারচর ও পালপাড়া বালুমহালে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট সীমানায় ড্রেজার মেশিনে লতানো পাইপ দ্বারা নদীর ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এরপর মেশিনে ছেঁকে পানি ও মাটি অপসারণ করে শুধুমাত্র বালু বড় ও মোটা আকৃতির পাইপ দ্বারা চরে রাখা হচ্ছে। সেখানে বালুর স্তূপ একেকটা ছোট পাহাড়ের আকার ধারণ করেছে। বালু শুকানো হলে কোনো কোনো বালুমহালে বেলচা ও কোদাল দিয়ে কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। আবার কোনো বালুমহালে এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে বালুট্রাকে তোলা হচ্ছে। বালুমহালগুলোর একেকটির দৈর্ঘ্য নদীর ১ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার বালুমহালের বালু পুরো কুমিল্লা জেলার চাহিদা মেটায়। বাকি বালুমহালের বালু মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও ফেনীসহ আরো কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করা হয়।

জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, এবার দুটি বালুমহাল বেশি ইজারা দিতে পারায় এবং পূর্বের তুলনায় বেশি ইজারা মূল্য পাওয়াতে রেকর্ড রাজস্ব আয় হয়েছে। আমরা বালুমহালের সংখ্যা বাড়িয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে কাজ করছি। পরবর্তী অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে আরও বেশি রাজস্ব যোগ হবে বলে আশা করি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads