ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রায় ৩০ জন প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ ২৩ জন প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বা প্রতীক না থাকায় বেশি সংখ্যক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
তফসীল অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে জোরালোভাবে গণসংযোগে নেমেছেন। তবে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা সক্রিয় থাকলেও অন্য কোনো দলের প্রার্থীরা এবার মাঠে নেই।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী আগামী ০৮ মে ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্য প্রার্থীরা মাঠে না থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দলীয় ভোটের পাশাপাশি নিজ নিজ পেশাগত পরিচয় কাজে লাগিয়ে ভিন্ন কৌশলে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি ।
এসব প্রার্থী প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাঁট-বাজার ঘুরে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে দোয়া চাইছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থীতা জানান দিয়েছেন আগেই। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাঁট-বাজারসহ সব মোড়ে মোড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবিসংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও বিভিন্ন শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে।
উপজেলায় বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ধনবাড়ী বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হারুনার রশীদ হীরা। তিনি সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপির খালাতো ভাই। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন। এবার সরকার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে উন্মুক্ত ঘোষণা করায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে আরও ৬ জন ক্ষমতাসীন আওয়ামী দলীয় প্রার্থী।
উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আরও যারা প্রতিদ্ধন্ধিতার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন তাঁরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর ফারুক আহমাদ ফরিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী কিসলু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনি ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল ইসলাম।
অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে (পুরুষ) নির্বাচন করবেন এমন নাম শোনা যাচ্ছে কমপক্ষে ২০ জন প্রার্থীর। তাঁরাও পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে জানান দিয়ে সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছেন। চালাচ্ছেন ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মহিলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেব-উন নাহার লিনা বকল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা: কল্পনা বেগম ও আওয়ামী দলীয় তাহমিনা আক্তার লিপি গণসংযোগ করছেন।
সাধারণ ভোটারদের সাথে নির্বাচন নিয়ে কথা বললে তাঁরা জানান, ‘সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে আমরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে চাই। যিনি একাধারে উপজেলার উন্নয়নমূলক কাজ করবে। যে কোনো সাধারণ মানুষ তাঁর সাথে যেন কথা বলতে পারেন। তাকে সব সময় পাশে পাওয়া যাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে অনেক নেতাকর্মীরা দলের মধ্যে সুবিধা বঞ্চিত হয়েও দলের জন্য কাজ করে আসছে। দ্বন্ধের ফলে গ্রুপিং হয়ে সৃষ্টি হয়েছে কোন্দলের। এ কারণে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবার। তবে দলের ভিতর পরির্বতন আসাটা জরুরী। এবার জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন- আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার সবুজ ও খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে আবু তালেব মুকুল ও কল্পনা বেগম এগিয়ে রয়েছেন। অন্য প্রার্থীরাও ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করছেন। জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ।’





