গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে হালুয়াঘাটে দুই গারো আদিবাসী কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের স্বীকার হয়। পরে ধর্ষণ ও সহযোগিতা করায় ৩০ ডিসেম্বর ১০ জনকে আসামীকে করে মামলা করা হয়। কিন্তু ধর্ষণের ৯ দিন পার হলেও বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি। এতে উত্তেজনা বিরাজ করছে হালুয়াঘাটে গারো সম্প্রাদয়ে।
আজ দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন বাগাছাস বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে।
দুপুরে উপজেলার শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে সংক্ষপিত্ত আলোচনা সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস)। এসময় উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আনোয়ার খোকন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্ণা ঘোষ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহব্বায়ক নোমান মন্ডল, যুবলীগের মির্জা মোরশেদ ও মাসুদ রানাসহ গাজীরভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান প্রমুখ।
জানা গেছে, ময়মনসিংহ শহর থেকে অন্তত ৬৫ কিলোমিটার দূরে হালুয়াঘাটের গাজীরভিটা ইউনিয়নের ওই গ্রামটি। ভারত সীমান্তের মাত্র ৫০ গজ দূরেই বাস করে অন্তত ৮০টি গারো পরিবার। সেদিন এক প্রতিবেশীর বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে যায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দুই কিশোরী ও ১০ বছর বয়সী এক শিশু। গারো রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ২টার দিকে বাড়ি ফিরছিল তারা।
এদিকে, আগে থেকেই তারা বখাটে দলের টার্গেটে ছিল। দলটির নেতৃত্ব দেয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য কচুয়াকুড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে সোলায়মান হোসেন রিয়াদ (২২)। গভীর রাতে পথে হঠাৎ রিয়াদকে দেখে ভয় পেয়ে যায় ওই তিন মেয়ে। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রিয়াদ তার সঙ্গীদের নিয়ে দুই কিশোরীকে ধরে ফেলে। এরপর অন্তত সাতজন তাদের ধর্ষণ করে। ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় দুই কিশোরীকে। এ অবস্থায় দুই কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টাও করে বলে জানিয়েছে পরিবার।
একপর্যায়ে দুই কিশোরী তাদের পরিবারকে নির্যাতনের ঘটনা জানায়। এ ধরনের ঘটনা এর আগে এলাকায় কখনও ঘটেনি। বাঙালি ও গারোরা মিলেমিশে বাস করলেও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি প্রথম হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছিল না। খবর পেয়ে ২৯ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মামলার ব্যবস্থা করেন। পরদিন একটি মামলা করেন নির্যাতনের শিকার এক কিশোরীর বাবা।
মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ জনকে। রিয়াদ ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলো কচুয়াকুড়া গ্রামের শরিফ, এজাহার হোসেন, কাটাবাড়ি গ্রামের রমজান আলী, কাউছার, আছাদুল, শরিফুল ইসলাম, মিজান, রুকন ও মামুন। তারা সবাই এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ গত ৯ অক্টোবর মদসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যায়। তবে দ্রুতই জামিনে বেরিয়ে আসে।আরো বলেন আমরা আসামিদেরকে দ্রুত ধরার চেষ্ট করছি।





