এম এ রাজ্জাক, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর হাটে ধানে সরবরাহ বেড়েছে। আর সরবরাহ বাড়ায় হাটগুলোতে প্রতিমণ ধান ১০০ টাকা কম দরে কিনছেন ব্যবসায়ীরা। তবে চাষিদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের খেয়ালখুশি মতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় কাঙ্ক্ষিত দর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
নওগাঁর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় শনিবার (১০ ডিসেম্বর) হাট সরেজমিনে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, হাটে সব ধরনের ধানের সরবরাহ বেড়েছে। এ অজুহাতে ধানের দর কমিয়ে দিয়েছেন মিলাররা। হাটে হাটে প্রতিমণ স্বর্ণা ৫ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১২২০ টাকা। যেটা গত তিন দিনে বিক্রি হয়েছে ১৩০০ থেকে ১৩২০ টাকায়।
জানা গেছে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তিক চাষিরা বিক্রির জন্য হাটে তোলেন ধান। এতে গেল সপ্তাহ থেকে নওগাঁর সরস্বতীপুর হাটে যোগান বেড়েছে সব ধরনের ধানের। ধানের জোগান বাড়াই ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে চাষিদের। তিন দিনের ব্যবধানে মন প্রতি দর কমেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।
চাষিরা জানান,হাটে স্বর্ণা ৫ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১২২০ টাকা। ধান থেকে চাল বের করে খরচ পড়ছে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা। কিন্তু সেই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায়। ধান থেকে চালের ফারাক রয়েছে অন্তত ১০ টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, হাটে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মত দর বেঁধে দিয়ে ধান কেনায় সব লাভ তারা করেন।
নওগাঁয় ধানের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ২০০ টাকা উত্তর গ্রাম এলাকা থেকে ধান বিকাতে আসা জফের উদ্দিন, দারসা এলাকার কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, এবার সারসহ কৃষি খরচ অনেক বেশি। তাই প্রথম পর্যায়ে ধানের বাড়তি দরে কিছুটা পোষাচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও দর কমায় লোকসান হচ্ছে। এদিকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মোহাম্মদ রাশেদ চৌধুরী বলেন, ধানের যোগান বাড়ায় কম দরে কিনছেন তারা।
অপর ব্যবসায়ী শাহজাহান জানান, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ধানের দর কমিয়ে দিয়েছে। তাই কম দরে কিনতে হচ্ছে তাদের।
চলতি মৌসুমে জেলায় আমনের আবাদ হয়েছে এক লাখ ৯৮ হাজার হেক্টর জমিতে। আর ধান পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রার ধরা হয়েছে সাড়ে নয় লাখ মেট্রিকটন। হাটে স্বর্ণা -৫ -১২২০, নাজিরশাইল ১৫৫০, কাটারিভোগ ১৬৫০ টাকা গোল্ডেন আতপ ১৯০০ টাকা ও সুগন্ধি আতপ ১৯ টাকা মণ দরে বেচাকেনা হচ্ছে।





