ধামরাইয়ে একরাতে ১৭ জনের নামে পাঁচ মামলা

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

ধামরাইয়ে একরাতে ১৭ জনের নামে পাঁচ মামলা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৭ অগাস্ট, ২০২১

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি আবাসন প্রকল্পের ১৭ জনের বিরুদ্ধে একই দিনে ৫ মামলা দায়ের করার ঘটনা ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ওই প্রকল্পের ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে থানায় ডেকে এনে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা পর তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার বাদী করা হয়েছে ওই প্রকল্পের বালু ভরাটসহ অন্যন্য কার্যক্রম পরিচালনায় বাঁধা দেয়া মামলার আসামির পরিবারের সদস্যদের।

গত ৩ আগস্ট ঢাকার ধামরাই থানায় ঘটেছে এমন ঘটনা। যেখানে মাত্র ৩ দিন আগেই হত্যা চেষ্টা মামলার ৬ আসামীকে ধরতে ব্যর্থ হয় থানা পুলিশ। সেখানে মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানেই আসামীদের পরিবারের সদস্যদের দেয়া মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রকল্পের ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে জমি কেনা হয়। সম্প্রতি ওই জমি ভরাটে বালু ফেলা শুরু হলে বালু ভরাটের চুক্তি নেওয়ার প্রস্তাব দেন স্থানীয় বদরুল সরদার, সাইদুর রহমানসহ ৫-৬ জন ব্যক্তি। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় জমি বিক্রেতাদের প্রায় ৪০০ পরিবারের সদস্যদের সেই চুক্তি করে দেয়ায় বিরোধিতা শুরু করে ওই চক্রটি। কেনা জমিতে ঢুকতে গেলে বাঁধা দেয়া, মারধর করার মত ঘটনা ঘটায় ওই চক্র ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

চক্রটির বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। সাভার, ধামরাইয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টাসহ বিভিন্ন ধরণের আধা ডজন করে মামলা রয়েছে। এছাড়া কথিত যে জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ, সেই জমির কোথাও কোনদিন কোন হিস্যা ছিল না এই চক্রের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষকদের এই প্রকল্পটি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে চক্রটি। তাদের অস্থায়ী কার্যালয় ভাংচুর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগও দেয় তারা। তাদের ভূমি সংক্রান্ত এই অভিযোগের তদন্ত করে এখানে প্রকল্প বাস্তবায়নে ত্রুটি নেই বলে রিপোর্ট দেন এসি ল্যান্ড অন্তরা হালদার। এছাড়া জেলা ভূমি কার্যালয় ও আবাসন কর্তৃপক্ষও তাদের প্রকল্প পরিদর্শন করে। তবুও ওই চক্রকে থামানো যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি মামলার বাদী হয়েছেন জিয়াসমিন আক্তার নামে এক নারী। তিনি এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা চক্রের মূল হোতা বদরুল সরদার ওরফে খাস বদুর স্ত্রী। বদরুল অত্র ইউনিয়নের যুবদলের সাবেক নেতা। সে আগে ধামরাই সহকারী ভূমি কার্যালয়ে খারিজের দালালী করত। এখন দৃশ্যমান কোন কাজ না করেও যিনি ঘুরে বেড়ান প্রাইভেটকারে। জানা যায়, বালু ব্যবসা করতে চাওয়ার মূল হোতা তিনি। কোম্পানির ব্যবসা না করতে পেরে এলাকার মানুষদের ক্ষেপীয়ে তুলে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ কাজে ব্যবহার করেন কুল্লা ইউনিয়নের বর্তমান জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান ও বিভিন্ন থানার একাধিক মামলার আসামী ভঞ্জন রায়কে। গত বছর টেঁটা দিয়ে আকসির নগরের এক গাড়ি চালকের ওপর হামলা চালান তিনি। চালক গাড়িতে থাকা লাঠি দিয়ে পাল্টা আঘাত করলে পা ভেঙ্গে যায় ভঞ্জনের। গত ৩ আগস্টে ৫ মামলার দ্বিতীয়টির বাদী হয়েছেন সেই ভঞ্জনের মা সাম দাসী। আরেক মামলায় বাদী হয়েছেন লাভু নামে এক ব্যক্তি। এলাকায় যার পরিচিতি ভবঘুরে হিসেবে।

এসব মামলায় প্রতারণা করে জমি দখলসহ জখম, মারধর, টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া এসব মামলার ঘটনার দিন, তারিখ ও সময় পেরিয়ে গেছে বহু আগে। সেসময় থানায় কোন লিখিত অভিযোগও হয়নি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ বলেন, এত রাতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে একই আসামীদের নামে দায়ের হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে আগে কখনো হয়নি। কপি পেস্ট করে ৫টি মামলাই যেভাবে সাজানো হয়েছে তা হাস্যকর। সবগুলোতে একই আসামী।

তিনি আরও বলেন, এমন মামলা যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা সহজেই বুঝে ওঠা যায়। এজন্য শুনানিতে বিবাদী পক্ষ অনেকটা এগিয়ে থাকেন। আর তদন্তেও যদি বিবাদী না রাজি দেন, তাহলে পুলিশের কাছ থেকে অন্য কোন সংস্থা এটার তদন্তের দায়িত্ব পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ঘটনার সত্যতা না মিললে মামলা দিয়ে হয়রানি করা ও হয়রানিতে সহায়তা করা দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই মানহানি মামলা করতে পারবেন বিবাদী পক্ষ।

জানতে চাইলে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আতিক রহমান বলেন, 'তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ ছিলো। সম্প্রতি তদন্ত করে তাদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads