জাতীয়

অমর একুশে বইমেলা

ধারদেনা করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রকাশকরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ অক্টোবর, ২০২১

করোনা মহামারির দুর্যোগ কাটিয়ে আগামী বছরের অমর একুশে বইমেলার প্রস্তুতি নিতে আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রকাশকরা। অনেকে লেখকদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে বই ছাপানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, করোনায় ঘরে বসে পাঠকরা অনলাইনে বই কেনার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রভাব পড়বে মেলায়। তাই বেশ কিছু প্রকাশক আগামী বইমেলাকে ঘিরে বড় অঙ্ক বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। কিছু প্রকাশকের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বই ছাপাতে টাকা লাগবে কম।

প্রকাশকদের মতে, করোনায় প্রায় ৯ মাসের মতো বন্ধ ছিল সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। খাতটি শিল্প না হওয়ায় সরকারের কাছ থেকে প্রকাশকরা কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তখন তারা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে নগদ অর্থের সংকটে ভুগছেন সবাই। ফলে কোনো প্রকাশনা সংস্থা মেলার পর টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার মৌখিক শর্তে লেখকদের কাছ থেকে অগ্রিম কিছু অর্থ নিয়ে বই প্রকাশের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া অনলাইনে সারা বছর ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়ে বইকেনায় অভ্যস্ত পাঠককে ২৫ শতাংশ ছাড়ে মেলায় টেনে আনতে বেগ পেতে হবে। তা ছাড়া মহামারির পর উঠে দাঁড়াতে কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক প্রকাশক এবার মেলায় অংশ নাও নিতে পারেন বলে শঙ্কা জানিয়েছেন।

দেশের সবচেয়ে বড় বইয়ের বাজার বাংলাবাজার। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রকাশনী আছে প্রায় চারশ। পাঠ্যবই ও সৃজনশীল মিলিয়ে বইয়ের দোকান আছে দুই হাজারের মতো। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, বাংলাবাজার, পল্টন, সেগুনবাগিচা, কাঁটাবনকেন্দ্রিক বেশকিছু প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে অর্ধেক বই প্রকাশ করেছিলেন তারা। এবার কিছুটা বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় বলতে পারছেন না এখনই।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও ভাষাচিত্রের কর্ণধার খন্দকার সোহেল বলেন, আগে বইমেলায় ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই কেনার জন্য পাঠক বসে থাকত। এখন অনলাইনে নানা প্রতিষ্ঠান ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড়েও বিক্রি করছে। পাঠক কেন বইমেলার জন্য অপেক্ষা করবে? কী বই কিনছে আর পড়ছে সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। ফলে এই প্রবণতার কারণে মেলা থেকে বই কেনার ঢল নামবে না। যারা ঘুরতে চান, আড্ডা দিতে চান তারা আসবেন। হাতে বই নিয়ে যাবেন ঠিকই; কিন্তু শুধু বই কেনার উদ্দেশ্যে আসবেন না।

তিনি আরো বলেন, লকডাউনে বেচাকেনা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এরপর খুলে দেওয়া হলো ঠিকই, কিন্তু বই বিক্রি হচ্ছে না। কারণ যারা বইয়ের ক্রেতা সেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতে টাকা নেই। তাই সামনের বইমেলায় বড় কিছু আশা করছি না। তিনি বলেন, লেখকদের কাছ থেকে আগাম কিছু টাকা নিয়ে মেলার পর ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীব্যাপী মহামারিতে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পর সহায়তা দেওয়া হয়েছে। খসড়া গ্রন্থনীতিতে বইকে সৃজনশীল পণ্য বলায় এ খাত প্রণোদনা পায়নি।

শ্রাবণ প্রকাশনীর কর্ণধার রবিন আহসান এবারো বইমেলায় অংশ নেবেন না জানিয়ে বলেন, বইমেলায় অনেক টাকা গচ্চা দিতে হয়। এখনকার পরিস্থিতিতে ভরসা পাই না। তিনি বলেন, বইমেলাটা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি। বিরাট জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিকল্পনা নেই। এমন জায়গায় স্টল হয় যে পুরোটাই লস হয়। আমি নিজের জন্য ১১-১৩ নভেম্বর বইমেলার ব্যবস্থা করছি। নিজেদের টিকে থাকার জন্যই প্রকাশকদের নানা কৌশল নিতে হবে।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, এবার সবাই সাশ্রয়ীভাবেই হয়তো মেলার কাজ করবে। প্রকাশক ও লেখকের মধ্য যৌক্তিক যে-কোনো বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে যদি কেউ লেককদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয় তবে তা হতে পারে। লেখকরাও বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রকাশকদের সহায়তা করতে চান।’

তিনি বলেন,আমরা এর মধ্যে মেলার কাজ শুরু করেছি। অবস্থা খারাপ। কিন্তু এটা ঘুরে দাঁড়াবারও সময়। গত বছরের ক্ষতিটা ধরে নিয়েই এগোতে হবে। ইতিবাচকভাবে এগোতে চাচ্ছি।

সময় প্রকাশনীর কর্ণধার ফরিদ আহমেদ মনে করেন, সবার নয়, কারো কারো অবস্থা খারাপ। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভিন্নতা নিয়ে এগিয়ে যায়। এটা মানসিকতার ওপরও নির্ভর করে। বাংলাবাজারের অবস্থা ভালো নয়, এ কথা সত্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানে পার্থক্য তো আছেই।

করোনার পর সহায়তার জন্য আলাদা প্রণোদনা ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ প্রণোদনা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ ছিল। যেটা আমাদের খুব একটা কাজে দেয়নি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads