নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে গতকাল রোববার সকালে সদ্যজাত কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকেই এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। বিভিন্ন তথ্য ও সূত্রের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ জানতে পারে ২৯ তারিখ রাতে পেটব্যাথা নিয়ে উপজেলার বেকড়া আটগ্রাম ইউনিয়ের এক তরুণী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তিনি বেকড়া উত্তরপাড়ার ছনির মোল্লার মেয়ে। মধ্যরাতে ছনিয়ার প্রসব ব্যাথা উঠলে মা হাফিজা মেয়েকে হাসপাতালের টয়লেটে নিয়ে বাচ্চা প্রসব করান। প্রসবের পরপরই নবজাতকে গলা টিপে হত্যার পর ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেয়। টয়লেটের রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে। কয়েক ঘণ্টা চলে মা মেয়ের এসব কাজ। দীর্ঘ সময় হাসপাতালের টয়লেটে আটকে এমন কাজ করায় অন্যান্য রোগীরা বিপাকে পড়ে যায়। এতে বাড়তে থাকে সন্দেহ। আর সেই সন্দেহ এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট ছাড়াতে সহায়ক হয়। পরদিন সকালে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে যায় ছনিয়া।
হাফিজা ও ছনিয়ার থানা পুলিশকে বলেন, ভাদ্রার ফুপাতো ভাইয়ের সঙ্গে শারীরিক মেলামেশায় ছনিয়ার পেটে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে ফুপাতো ভাইয়ের সন্তান। এ ঘটনায় গ্রাম পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। নাগরপুর থানার এসআই ইদ্রিস আলী ও সঙ্গী ফোর্স ছনির মোল্লার বসতবাড়ি থেকে নবজাতকের মা ছনিয়া (১৮), ছনিয়ার মা ছনির মোল্লার স্ত্রী হাফিজা আক্তারকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে মা ও মেয়ে নবজাতকে গর্ভপাত ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করে।
নাগরপুর থানার এসআই মনোয়ার হোসেন জানান, নবজাতকের গলা লাশ উদ্ধারের পর বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ তরা হয়েছে।





