নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর পলাশে নিখোঁজের চারদিন পর মাইশা আক্তার নামে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের নিজ বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায়
তিনজনকে আটক করেছে র্যাব। মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১১ নরসিংদী সিপিএসসি এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক ক্যাম্প কমান্ডার নিশাত তাবাসসুম।
নিহত মাইশা আক্তার জয়নগর গ্রামের মেহেদী হাসানের মেয়ে। সে শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় সেদিন রাতেই পলাশ থানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
আটককৃতরা হলো, কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকার জালাল শেখ (৪৮), তার স্ত্রী মাহফুজা শেখ (৩৯) ও ছেলে বিল্লাল শেখ (২০)। তারা সবাই মেহেদী হাসানের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহকারী পরিচালক ক্যাম্প কমান্ডার নিশাত তাবাসসুম জানায়, ডাংগা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের শিলবাড়ির মোড়ের মেহেদী হাসানের মেয়ে মাইশা শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। পরে তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে এ ঘটনায় রাতেই পলাশ থানায় জিডি করে মাইশার বাবা। পরে সোমবার বিকালে মাইশার বাবা জিডির কপি নিয়ে নরসিংদীর র্যাব ক্যাম্পে যায়। পরে র্যাবের একটি অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তে নামে। তারা ঘটনার আশেপাশের সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে বিল্লাল শেখকে আটক করে।পরে সে জিজ্ঞাসাবাদে তার বাবা জালাল শেখ মাইশাকে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকে ফেলে রেখেছে বলে জানায়। পরে তার দেয়া তথ্যে
ঘটনার চার দিন পর ভোরে নিজ বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে মাইশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় জালাল, বিল্লাল ও মাহফুজাকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পলাশ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিশাত তাবাসসুম আরও বলেন, শিশু মাইশা বাড়ির সামনে খেলাধুলার সময় জালাল মিয়াকে বালু নিক্ষেপ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে ধমক দিলে সে দৌড় দিয়ে মাটিতে পড়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়। পরে শিশুটিকে বাড়িতে ধরে নিয়ে যায় জালাল। এরপর থেকে শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। কীভাবে হত্যা ও লুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘটানো হয়েছে সে বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।





