নার্সের অবহেলায় ভ্যানের উপর সন্তান প্রসব

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

নার্সের অবহেলায় ভ্যানের উপর সন্তান প্রসব

  • লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ মার্চ, ২০২০

সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত নার্সদের অবহেলায় মেডিকেলের সামনে ভ্যানের উপরেই প্রসূতির সন্তান প্রসব হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় ওই প্রসুতি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। আজ শুক্রবার দিনভর ঘটনাটি ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হলেও বিকালে ঘটনা প্রকাশ পায়।

জানা গেছে, উপজেলার পুর্ব বিছনদই এলাকার দিনমজুর রুহুল আমিনের গর্ভবতী মেয়ে মনিফা বেগমের (২২) গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ভ্যানযোগে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করান মনিফার ছোট ভাই রাকিব (১৫)। যার ভর্তি রেজি নং ৩৩৫৬/৫০ ও ওয়ার্ডে ভর্তি রেজি-১৪২৩।

অভিযোগ উঠেছে, মেডিকেলে ভর্তির পর থেকে গর্ভবতী মনিফাকে কোন নার্স বা আয়া সহযোগীতা না করে উল্টো তাকে ক্লিনিকে গিয়ে সিজারের জন্য ডিউটিরত সিনিয়র স্টাফ নার্স তাহমিনা ও রঞ্জিলা বেগম চায় দেয়। সিজার করার সামর্থ না থাকায় মেডিকেলেই বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করার জন্য নার্সদের কাছে অনুরোধ করেও কোন সাড়া না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে ছোট ভাই রাকিব বোনকে নিয়ে মেডিকেলের নিচে নেমে কারও সহযোগিতা পাবার আশায় এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেডিকেলের সামনেই এক মহিলার সহযোগিতায় ভ্যানের উপরেই মনিফা সুস্থ সবল সন্তান প্রসব করেন। খবর শোনে রাতেই তড়িঘড়ি করে নার্স এসে সন্তান ও সন্তানের মাকে পুনরায় মেডিকেলের বেডে শুইয়ে দেয়।

তবে এ ঘটনায় সরকারি মেডিকেলের নার্স ও ডাক্তারের কার্যকলাপ নিয়ে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি মেডিকেলে ভর্তিরত প্রসববেদনায় কাতর একজন প্রসূতি মা কিভাবে মেডিকেলের সামনেই ভ্যানের উপর সন্তান প্রসব করলো এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মখে।

আজ শুক্রবার বিকালে প্রসূতি মনিফা বেগম জানান, মেডিকেলে ভর্তি হবার পরে আমি প্রসববেদনায় অনেক কষ্ট পেয়েছি। নার্স তাহমিনা ও রঞ্জিলা বেগমের কাছে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমাকে কোন সহযোগিতা না করে বলেন, ‘বাচ্চার অবস্থা ভালোনা, ক্লিনিকে গিয়ে সিজার করতে হবে’। ‘আমরা গবিব মানুষ হওয়ায় আমাদের জীবনের কোন মুল্যই নেই তাদের কাছে’!

মেডিকেলে ভর্তি এক রোগীর আত্মীয় উপজেলার উত্তর পারুলিয়া এলাকার জমসের আলীর ছেলে এরশাদুল ইসলাম (প্রত্যক্ষদর্শী) বলেন, প্রসববেদনায় কাতর ওই প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসবের জন্য তাদের কোন চেষ্টাই ছিলোনা। নার্স একটু সহযোগিতা করলে প্রসূতির সন্তান মেডিকেলেই হতো এবং কোন কষ্টও কম পেতো।

মনিফার ছোট ভাই রাকিব বলেন, ‘বোন ও গর্ভের সন্তানকে বাচাঁতে আমি নার্সকে অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা শুধু ক্লিনিকে ভর্তি করাতে বলেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিউটিরত সিনিয়র স্টাফ নার্স তাহমিনা বেগম বলেন, প্রসুতি মনিফা বেগম মেডিকেলে ভর্তি হবার পর নার্স রঞ্জিলা আপাসহ আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। তার জরায়ুর মুখ খোলা থাকলেও জরায়ুর বাহিরে কট প্রলাভস (ফুলের একটা অংশ) থাকায় আমরা ঝুঁকি নিতে সাহস পাইনি। তবে রেফার্ড (ছারপত্র) ছাড়া সরকারি মেডিকেলে ভর্তি একজন প্রসূতি রাত ১২টায় কিভাবে মেডিকেলের বাইরে গিয়ে ভ্যানে সন্তান প্রসব করলো এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি ওই নার্স তাহমিনা বেগম।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ নাইম হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। স্টাফ নার্সের দায়িত্বে অবহেলার কোন প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads