নিম্নচাপের প্রভাবে সিরাজদিখানে রোপণকৃত আলু বিনষ্টের শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে রোপণ করা আগাম আলু বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

নিম্নচাপের প্রভাবে সিরাজদিখানে রোপণকৃত আলু বিনষ্টের শঙ্কা

  • সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৪ অক্টোবর, ২০২০

দেশের আলু উৎপাদনের বৃহত্তর জেলা ও প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে দেশব্যাপী মুন্সীগঞ্জের সুনাম অতি পরিচিত। কার্তিক মাসের শুরুতে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নে প্রতিবছরই আগাম আলু চাষ করে মৌসুমের আগে দেশবাসীকে যেমন আলুর চাহিদা মিটায় এখানকার কৃষকরা তেমনি লাভবান ও হয় তারা। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র বালুচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের জমিতে আগাম জাতের ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আলু চাষ করে এখানকার কৃষকরা। ইতোমধ্যে চলতি কার্তিক মাসের শুরুতে প্রায় ১২ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছিলেন কৃষকরা। তবে আকস্মিক বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায়। অত্র ইউনিয়নের জমিতে সদ্য রোপণ করা প্রায় ১২ বিঘা আলুর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েন স্থানীয় কৃষক।

সরেজমিনে গিয়ে কৃষক নূর ইসলামের সাথে কথা বললে জানান, প্রতি বছর তিনি কার্তিক মাসের শুরুতেই কয়েক বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেন যদিও মূল আলু লাগানোর সময় হলো কার্তিকের শেষে। আগাম আলু চাষে প্রতি বিঘা জমিতে যদিও আলু উৎপাদন কম হয় তবে আগে আলু উত্তোলন করে বাজারজাত করলে ও বিক্রি করলে ভালো লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু এ বছর হঠাৎ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় ১২ বিঘা জমির আলু নষ্ট হয়ে যাবার আশংকা করছি।

কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, মূল সময়ে আলু লাগাতে বিঘা প্রতি আনুষাঙ্গিক সব মিলিয়ে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়, আগাম আলু লাগাতেও একই খরচ হয়। তবে এবার আলুর মূল্য বেশী হওয়াতে বিঘা প্রতি আলু লাগাতে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা করে। আগাম আলু লাগানো জমিতে পানি জমে থাকলেই মাটির নিচের আলু বিনষ্ট হয়ে যাবে। আমার ৩ বিঘা জমিতে আলু লাগানোর পরদিন থেকেই বৃষ্টি তাতে করে রোপণকৃত আলু নিশ্চিত নষ্ট হয়ে গেছে। এবং এইসব জমিগুলোতে পুনরায় আলু রোপণ ছাড়া কোন উপায় নাই।

সিরাজদিখান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, যদি জমিতে রোপণ করা আলুর ফুঁড়ি মেলে চারা গাছে রূপান্তরিত হয় সেগুলোর ক্ষতি কম হবে, তবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে আর টানা বৃষ্টি হওয়ার পর যদি কয়েকদিন লাগাতার মেঘলা আকাশ থাকে তাতে করে আলুর ক্ষতি অবধারিত। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শাফীয়ার রাহমান বলেন সিরাজদিখান উপজেলায় গত বছর আলু রোপণের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৯ হাজার ২ শ' হেক্টর জমিতে এবার সেটা ১০ হাজার হেক্টর পরিমাণ বলে জানান তিনি। তবে আগাম আলুর রোপণ ও কদিনের বৃষ্টি সম্পর্কে তিনি জানান, আগাম রোপণ করা আলুর কিছুটা ক্ষতি তো অবশ্যই হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads