জাতীয়

নিরাপত্তার অভাবে বাকৃবিতে বেড়েছে অনৈতিক কর্মকান্ড

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ৯ জানুয়ারি, ২০২২

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে যথেষ্ট নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় বহিরাগতদের দ্বারা ঘটছে অহরহ অনৈতিক কর্মকান্ড। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, বৈশাখী চত্ত্বর, আম বাগান, আম তলা, লিচু বাগান, জব্বার রেল লাইনসহ অনেক জায়গায় বহিরাগতদের অনৈতিক কর্মকান্ড অতীতে লক্ষ্যণীয়। আর বর্তমানে তা বেড়েই চলেছে।

প্রকৃতির এক অপরূপ মায়ায় আচ্ছাদিত ক্যাপাস বাকৃবি। একধারে ব্রহ্মপুত্র নদ অন্যদিকে তার বিশাল খেত খামার আর গবেষণাগার। তার মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি হল (ছাত্র হল-৯, ছাত্রী হল-৫), ৬টি অনুষদ, কেন্দ্রিয় লাইব্রেরীসহ অনেক স্থাপনা। সাম্প্রতিক ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ড, যার সামনেই ছাত্রী হলগুলো অবস্থিত। ১২৬১ একর বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র তিনটি নিরাপত্তা জোন- আবাসিক এলাকা, অফিস এলাকা, খামার এলাকা যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেইট ও সংলগ্ন জোন অফিস, ভি.সি. বাস ভবন গেইট, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেইট ও সংলগ্ন জোন অফিস, দিগারকান্দা গেইট (৪নং গেইট), পোল্ট্রি ডেইরি ফ্রার্ম গেইট (৫নং গেইট) অঞ্চলগুলো অবস্থিত। এই নিরাপত্তা জোনগুলোতে যে সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী কর্মরত যা দ্বারা সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অঞ্চলগুলোর সামাজিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্ব স্থাপনাগুলোর নিয়ম লঙ্ঘন করে বিশেষ করে ছবি তুলার জন্য শহীদ মিনারের উপরে জুতো পড়ে উঠা, পুরোনো রেল লাইনের পাল্ট ফর্ম, মুক্ত মঞ্চের সামনে আম চত্বর, টিএসসি লেক, বৈশাখী চত্বর এলাকায় অনেক ছেলেমেয়েদের অশালীন ভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়।

বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘মেয়েদের হলের পেছনে বহিরাগতদের আগমন ও অশালীন আচারণ দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকাশ্যে ছেলেমেয়ে পরস্পর অসামাজিক মেলামেশা, দলবদ্ধ ছেলেরা এখানে নেশা করা এবং অনৈতিক সম্পর্ক করতেও দেখা গিয়েছে। এসব নোংরা আচরণ ছাত্রী হলের পাশে ঘটবে তা কখনও ভাবতে পারিনি। মেয়েদের হলের পিছনে বহিরাগতদের আড্ডা প্রায়ই দেখা যায়। এসব কর্মকান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।’

পশুপালন অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘ক্যাম্পাসের রাস্তায় বখাটে ছেলেরা পিছন থেকে ছবি তুলে ও বাজে মন্তব্য করে। বিশেষ করে মেয়ে ছাত্রীদের নিয়ে নানান বাজে মন্তব্য করে। মেয়েদের হলের পিছনে বহিরাগতদের আড্ডা প্রায়ই দেখা যায়’।

প্রধান নিরাপত্তা অফিসার মহিউদ্দীন হাওলাদার এ বিষয়ে বলেন, আমাদের নিরাপত্তা কর্মী এখন কিছু কম আছে। করোনার কারণে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০ জনকে নতুন নিয়োগের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ হলে আমরা ক্যাম্পসকে আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। আমাদের নতুন একটি টহল গাড়ি দেওয়ার কথা সেটি দিলে আমরা আমাদের কাজের অগ্রগতি আরোও বৃদ্ধি করতে পারব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads