নিরাপদ কর্মক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে ২৪ প্রতিষ্ঠান

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকেরা

ফাইল ছবি

জাতীয়

নিরাপদ কর্মক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে ২৪ প্রতিষ্ঠান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ এপ্রিল, ২০১৯

নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের স্বীকৃতি পাচ্ছে ২৪ শিল্প প্রতিষ্ঠান। সরকার পেশাজীবিদের নিরাপদ কর্ম পবিবেশকে উৎসাহিত করতে গত বছর এই সম্মাননা চালু করে। প্রথম বার ১২টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় এই সম্মাননা। তবে এবার ২৪টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে।

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিসব সামনে রেখে আগামীকাল রোববার এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। কর্মক্ষেত্র নিরাপদ করতে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস পালন করা হবে আজ। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘নিরাপদ কর্মপরিবেশ, টেকসই উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ।’

আজ শনিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এ তথ্য জানান। চতুর্থবারের মতো দিবসটি পালন করবে বাংলাদেশ। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব উম্মুল হাছনাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দিবসটি উপলক্ষে বিকেল ৪টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এদিন সকাল ৭টায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত র‍্যালি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৪টি প্রতিষ্ঠানের ১২টি তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে চা, পাট, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ শিল্পের তিনটি করে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে।

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর শিল্প এলাকায় ট্রাক শো হবে জানিয়ে মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, দিবসটির গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।’

তিনি বলেন, ‘কারখানা মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে মালিকদের আগ্রহ তৈরির উদ্দেশে শেখ হাসিনার সরকার গত বছর থেকে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি উত্তম চর্চা পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই- যেকোনো শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে যা কিছু প্রয়োজন সব কিছ করবে সরকার।’

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সেইফটি হলো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সবার স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়। এসডিজির লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে শ্রমিকের জন্য শোভন ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিশেষ নিশ্চিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ কর্মপরিবেশ শ্রমিকের অধিকার। নিরাপদ কর্মপরিবেশে শ্রমিকের স্বাস্থ্য যদি ভালো থাকে তাহলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নিশ্চিতের জন্য রাজশাহীতে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ১৯ বিঘা জমির ওপর ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, শ্রমিকের যেকোনো সমস্যা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে সার্বক্ষণিক বিনা খরচে হেল্প লাইন (১৬৩৫৭) চালু করেছি। পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়ছে। বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুয়েকটি ধাপে মজুরি সমন্বয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ার কারণে আমরা মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মজুরি সমন্বয় করে গেজেট করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, গার্মেন্টসের মজুরি বাস্তবায়নে এখন কোনো সমস্যা নেই। তারপরও সার্বক্ষণিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সদস্য করে ২৯টি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে দিয়েছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads