নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদরের উত্তর চওড়া বড়গাছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (সহকারী অধ্যাপক) ধীমান রায়ের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে সমাবেশ শেষে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চওড়া বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কলেজ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে আশপাশ এলাকা ঘুরে এসে কলেজের শহিদ মিনার চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে।
সমাবেশে অভিযোগ করা হয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দলীয় করণ করা হয়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন ভাবে অতিরিক্ত ফি আদায়, উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছে চাঁদা আদায়সহ অনলাইনে তথ্য হালনাগাদের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।
বক্তারা অক্ষ্যকের নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রতিষ্ঠানের (কলেজ) মাঠে সরকারি অর্থে মাটি ভরাটের নামে টাকা আত্মসাৎ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ধীমান রায়।
অপরদিকে, প্রতিষ্ঠানটির প্রভাষক পিনাকী রায় বলেন, মোটা অর্থের বিনিময়ে সিনিয়র শিক্ষক বাদে জুনিয়র শিক্ষকের পদোন্নতি দিয়েছেন তিনি। দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কের চেয়ারে বসেন তিনি। কুট কৌশলে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে তিন বছর ধরে অবৈধ ভাবে আধিপপ্ত বিস্তার করে দায়িত্বে পালন করে আসছেন।
অভিভাবক গোলাম সারওয়ার ভুট্টু অভিযোগ করে বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কলেজটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ধীমান রায়। তিনি অনিয়ম করে নিজের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। তাকে সরানো না হলে দারুণ ভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মসূচি শেষে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
জানতে চাইলে উত্তর চওড়া বড়গাছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ধীমান রায় জানান, আমি কোন অন্যায় করিনি। যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে এসব ভিত্তিহীন বানোয়াট। আমার কাছে সুবিধা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেমেছে তারা। এতে চাকুরি গেলে যাবে আপত্তি নেই।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট অ²য় কুমার রায়কে একাধিকবার মুঠো ফোনে ফোন দিয়ে পাওয়া না যাওয়ায় কোন মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আজকের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক ছাত্র আলী আকবর হাসমি, ব্যবসায়ী সোহাগ ইসলাম ও রোকন ইসলাম, অভিভাবক মোস্তাফিজুর রহমান ও গোলাম সারওয়ার ভুট্টু। এছাড়াও কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মারুফ, মিফতাহুল আলম মাফি, সজল রায়, এমি আকতার, পায়েল রায় এবং আসিফ হাসান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে গত রবিবার (১১ আগষ্ট) সকালে কলেজ মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। ওই অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করলে আগামীতে বড় ধরনের কর্মসূচি পালনে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বৃন্দ।





