রাজনীতি

নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৬৮ ভোটে হেরে যাওয়া সেই প্রার্থীর নাম নেই উপ-নির্বাচন মনোনয়ন তালিকায়

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৫ এপ্রিল, ২০২৩

আবু হাসান শেখ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
চাঁদখানা ইউনিয়নের সাবেক দু’বারের চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রতীক নিয়ে মাত্র ১ শ’ ৬৮ ভোটে হারা নাজিম উদ্দিন আলম সবুজের ঠাই হলো না আসন্ন চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শুন্য পদে উপ— নির্বাচনে প্রার্থীতার তালিকায়। এতে তার সমর্থকসহ সাধারণ জনগণ হতাশ। নৌকা প্রার্থীতার তালিকায় এ সাবেক চেয়ারম্যানের নাম না থাকার অভিযোগে শুক্রবার নিজ বাস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। অভিযোগ করা হয় স্থানীয় পর্যায়ে বর্ধিত সভায় তার নাম উঠে আসলেও আত্বীয়করণ, টাকার বিনিময় ও প্রতিক থেকে বঞ্চিত করা লক্ষ্যে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় তার নাম রাখা হয়নি।
চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শূন্য পদে উপ—নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মে। এ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য গত ১২ এপ্রিল বর্ধিত সভা হয়। সভায় দু’ বারের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আলম সবুজের নাম উঠে আসে। সেভাবে রেজুলেশনও করা হয়। কিন্তু জেলায় দেয়া হয় অন্য একটি রেজুলেশন। যেটিতে এ মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর নাম বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ফলে এ চেয়ারম্যানকে কৌশলে নৌকা প্রতীক থেকে সিটকে ফেলে দেয়া হচ্ছে বলে এ প্রার্থী সাংবাদিকদের জানান। তিনি আরও জানান— ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদের ৪র্থ দফা ইউপি নিবার্চনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার এ ইউনিয়নে আমার প্রতিদন্দী প্রার্থী মাত্র ১ শ’ ৬৮ ভোটে আমাকে পরাজিত করে। সেবার আমি পেয়েছিলাম ৩ হাজার ৫ শ’ ২৯ ভোট। আমাকে যিনি পরাজিত করেন তিনি পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৬ শ’ ৯৭ ভোট। যা আমার ভোটের চেয়ে ১ শ’ ৬৮ ভোট বেশি। অন্যদিকে গত নির্বাচনেও কৌশলে আমাকে নৌকা প্রতীক থেকে বঞ্চিত করা হয়। সে ভোটে মাত্র ১৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে দেয়া হয় আমাকে। গত নির্বাচনে আমি পেয়েছিলাম ৩ হাজার ৬ শ’ ৩৭ ভোট, আর আমার প্রতিদন্দী প্রার্থী ৩ হাজার ৬শ’ ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। যা আমার চেয়ে মাত্র ১৪ ভোট বেশি। গতবার আমাকে নৌকা প্রতীক থেকে বঞ্চিত করা না হলে এ ইউনিয়নটি নৌকার হাতেই থাকতো। আমার বিরুদ্ধে গতবার ষড়যন্ত্র করে নৌকা দেয়া হয়নি। এবারও গভীর ঘড়যন্ত্র চলছে। স্থানীয় বর্ধিত সভায় নাম থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান আমারসহ আরও একজনের নাম বাদ দিয়ে ৬ জনের নাম পাঠিয়েছে জেলা কমিটিতে, জেলা কমিটি সে তালিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্রে।
অন্যদিকে তালিকায় নাম থাকা মোস্তাফিজুর রহমান যাদু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও শুধু মাত্র আত্বীয়তা ও টাকার বিনিময়ে তার নাম পাঠানোর অভিযোগও তিনি করেন। মোস্তাফিজার রহমান যাদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন বাবুলের জামাতা সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলামের আপন ভগ্নিপতি। প্রতিক পেলেই চেয়ারম্যান হবে এ আশায় টাকা দিয়ে তালিকায় নাম ঠুকিয়েছে এ মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে অভিযোগকারী এ প্রার্থী সাংবাদিকদের জানান।
তবে আমি আপনাদের মাধ্যমে আমার প্রিয় অভিভাবক নেত্রীসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সু—দৃষ্টি কামনা করছি। আমাকে এ ইউনিয়নে নৌকার মাঝি করা হলে ইনশাআল্লাহ নৌকার পাল ধরে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে উন্নয়নে মডেল করবো এ ইউনিয়নটি। দেশের উন্নয়নে রাখবো অগ্রণী ভূমিকা। আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সদস্য করার আশাবাদ ব্যক্ত করছি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ’র কাছে। দোয়া চাচ্ছি সাধারণ সমর্থক—ভোটারদের কাছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৩ টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলনকালে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থী নাজিম উদ্দিন আলম সবুজ এ অবিযোগগুলো করেন। এসময় শতাধিক সমর্থক ও ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বর্ধিত সভার রেজুলেশনে যে ৮ জনের নাম উঠে এসেছে তার ৫ নম্বর ক্রমিকে নাম ছিল এ সম্ভাব্য নৌকার প্রার্থীর। এছাড়া এ প্রার্থী তালিকায় যারা আছেন তারা হলেন— স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আঃ বারেক, কৃষক লীগ’র তাহসান লেলিন, আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল আলম, কৃষক লীগ’র মোস্তাফিজুর রহমান যাদু, উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক সফি কামাল রিয়াদ, আওয়ামী নেতা ধনঞ্জয় রায় সিবু ও চাঁদখানা ইউপি আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার রায়। পরবর্তীতে নাজিম উদ্দিন আলম সবুজ ও ধনঞ্জয় রায় সিবু’র নাম বাদ দিয়ে উপজেলা কমিটি জেলা কমিটিকে তালিকা দেয় বলে জানা গেছে। সেটি স্বাক্ষর করে জেলা কমিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁদখানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান দুলাল বলেন— নিয়ম অনুযায়ী এটি হয়নি। আমরা ইউনিয়ন কমিটি উপজেলা কমিটিকে রেজুলেশনের মাধ্যমে তালিকা দিব, সেই তালিকা উপজেলা কমিটি জেলা কমিটিকে পাঠাবে। পরে জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রে প্রেরণ করবে। এ তালিকা পাঠানোয় ইউনিয়ন কমিটির ও আমাদের কোন ভূমিকা ছিল না।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান জানান— মনোনয়ন বোর্ড’র মাধ্যমে বাছাই শেষে ৬ জনের নাম পাঠানো হয়েছে। সেখানে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদের স্বাক্ষর রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন বাবুল বর্ধিত সভায় ৮ জনের নাম উঠে আসার কথা স্বীকার করে বলেন— নাজিম উদ্দিন আলম সবুজ ও ধনঞ্জয় রায় সিবু গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতিক চেয়েছিলন, প্রতিক না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন। তাই মনোনয়ন বোর্ড তাদের নাম বাদ দিয়েছে। আত্বীয়করণ ও টাকা গ্রহণের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন— বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠন। অনেকেই মনোনয়ন চাবেন, সবাইতো মনোনয়ন পাবেন না। তাই মনোনয়ন তালিকায় নাম না যাওয়ায় তারা দল ও আমার ভাবমূতি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে মিথ্যা, বানোয়াত, মনগড়া অসত্য কথা বলে বেড়াচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি আকস্মিত হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এ পদটি শুন্য হয়। ফলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় গত ৯ এপ্রিল চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শূন্য পদে উপ—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। আগামী ২৭ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ, মনোনয়ন বাছাই ৩০ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে এবং ভোটগ্রহণ ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads