নৌকাডুবির প্রধান কারণ অব্যবস্থাপনা

সংগৃহীত ছবি

দুর্ঘটনা

নৌকাডুবির প্রধান কারণ অব্যবস্থাপনা

  • সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সুনামগঞ্জে নৌপথে চলাচলের নিয়মনীতি অমান্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায়ই নৌকাডুবিতে প্রাণহানি ঘটছে সুনামগঞ্জ-অধ্যুষিত হাওরাঞ্চলে। এ অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে হাট-বাজার থেকে শুরু করে স্কুল- কলেজ-মাদরাসা, গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, ইউনিয়ন থেকে উপজেলায় মানুষ তার প্রয়োজনীয় কাজ মেটাতে চলাচলের বাহন হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে নৌকা ও নৌপথে। গ্রামাঞ্চলে যে সড়কপথ রয়েছে, বর্ষার শুরুতে অনেক সড়কপথই পানিতে ডুবে যায়। এতে প্রায় ছয় মাস নৌপথে চলাচল করতে হয়। চলতি বছরে জুলাই-আগস্ট দুই মাসে নৌকা ডুবে তাহিরপুর, ছাতক, ধর্মপাশা উপজেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন তাহিরপুর ও দুজন ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলা একটি হাওরে নৌকা ডুবে ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর আবারো নেত্রকোনার কলমাকান্দার গুমাই নদীতে একটি বালুবাইী বাল্কহেড যাত্রীবাহী ট্রলারকে ধাক্কা মারলে ধর্মপাশা উপজেলা মধ্যনগর থানার বাসিন্দা নৌকাডুবে ৯ জনই প্রাণ হারান। এর মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি মধ্যনগর থানার ইনাতনগর গ্রামে। এ নিয়ে প্রাণহানির মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১১।

হাওর পাড়ের বাসিন্দারা মনে করেন, সড়কপথের নির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকলেও নৌপথের নির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য নৌচালকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ট্রলার নৌকার ফিটনেস যাচাই, যাত্রীধারণ ক্ষমতা, যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করতে হবে। না হয় নৌপথে প্রাণহানি দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনাটি অত্যন্ত হূদয়বিদারক। গত ৯ সেপ্টেম্বর আবারো নেত্রকোনা জেলার সীমানায় আমাদের জেলার ধর্মপাশা উপজেলার নৌকাডুবির খবর শুনে আমি দিরাই উপজেলা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। সেখানে ১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশু প্রাণ হারিয়েছে। নৌকাডুবিতে যাদের প্রাণ গেছে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মধ্যনগরের স্বজনহারা পরিবারগুলোকে অর্থ সহায়তা বাবদ ১০ হাজার টাকা দুই জেলায় ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১২ জন মৃত পরিবারকে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নৌ-চলাচলের চালকদের সরকারি নিয়মনীতি মেনে ট্রলার নৌকার ফিটনেস যাচাই, যাত্রী ধারণক্ষমতা, যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করে নৌকা চলাচল করতে হবে। জেলা ও উপজেলায় নৌ-পুলিশ স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নজরদারি করবে। এ ব্যাপারে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্েদশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads