পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় দুই থানা

সংগৃহিত ছবি

জাতীয়

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় দুই থানা

  • রতন বালো
  • প্রকাশিত ১৩ জুন, ২০২২

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় দুই পাশে দুটি নতুন থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং প্রান্তের থানাটির নাম হচ্ছে ‘পদ্মা সেতু উত্তর থানা’ এবং শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েটেটির নাম ‘পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা’।  শুধু সেতুর নয়, দুই পাড়ের মানুষের নিরাপত্তাও দেবে থানা দুটি।  প্রায় ৩২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা এই ভবন দুটি নির্মাণ করেছেন পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। একজন সহকারী পুলিশ সুপারসহ ৪০ জন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন প্রতিটি থানায়। সংযোগ সড়কের টোলপ্লাজার পাশে থানা ভবনের অবকাঠামো নির্মাণ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, সেতু দুই প্রান্তেই দুটি করে ইউনিয়ন থানা দুটির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। লৌহজংয়ের মাওয়া প্রান্তের থানার আওতায় থাকবে মেদেনীমণ্ডল ও কুমারভোগ ইউনিয়ন। জাজিরা পয়েন্টের থানার আওতায় থাকবে পূর্ব নাওডোবা ও পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়ন। পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের পর ওই সেতু দিয়ে দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টা-ই যানবাহন চলাচল করবে। সারা দেশের মানুষ ও পর্যটকরা সেতু দেখতে যাবেন। ওই সময় সেতু এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ফোর্স থাকবে। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য বাহিনীর  লোকজন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। চলবে নিরাপত্তা কঠোর নজরদারি। তারা পোশাকে ও সাদা পোশাকে  সর্বক্ষণ খোঁজখবর রাখবেন।

থানা দুইটি শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগেই হয়তো থানা দুটির উদ্বোধন হতে পারে বলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার সূত্র জানায়। দেশবাসীর স্বপ্ন  ও গর্বের প্রতীক বহুল প্রতীক্ষিত  স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ  প্রকল্প এলাকায়  আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য  দুইটি থানা ভবন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। চলছে আরো নিরাপত্তামূলক অন্যান্য কার্যক্রম। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মনিটরিং করছেন বলে জানা গেছে।  

সেতু কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় রক্ষার্থে এ দুইটি  থানা ভবন নির্মিত হয়েছে। থানা ভবন ও নতুন থানার কার্যক্রম  শুরু হলে  সেতু পারাপারে  জনগণের যাতায়াত এবং পণ্য পরিহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সেতুর দুই পার্শ্বে দুইটি থানা এলাকায়  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সেতু সংশ্লিষ্ট  যেকোনো ধরনের  নাশকতামূলক কার্যক্রম  ঠেকাতে থানা দুইটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সেতু বিভাগের দাবি। দুইটি থানাই   ৪র্থ তলা নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশের নতুন থানাসমূহের  যে টাইপ প্ল্যান রয়েছে সে প্ল্যান মোতাবেক  জনগণকে সেবা দেওয়াসহ সব সুযোগ-সুবিধা  রেখেই থানা দুইটির নির্মাণ কাজ করা হয়েছে।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগেই দুইটি থানার উদ্বোধন করা হতে পারে। এ জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এ পদ্মা সেতুর ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে নিরাপত্তা দিতে থানা দুইটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেখানে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছেন। নিরাপত্তায় থাকবে অত্যাধুনিক যানবাহন, আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

অপর দিকে পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকে জানা গেছে, আগামী ২৫ জুন  স্বপ্নের পদ্মা সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগেই হতো থানা উদ্বোধন করা হতে পারে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। 

পদ্মানদীর উভয়প্রান্তের এই এলাকা একসময় বলতে গেলে জনশূন্য ছিল। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা সেতুকে ঘিরে দুই পাড়ের জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে। নতুন নতুন জনবসতি তৈরি হচ্ছে, নতুন নতুন হাট-বাজার বসছে। মানুষজন এখানে বসবাস করতে শুরু করেছেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশের প্রশাসনিক কার্যক্রম দরকার ছিল। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মেদেনীমণ্ডলে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার অদূরে এই থানা ভবন দেখে খুশি এলাকার মানুষজন।

মুন্সীগঞ্জের মেদেনীমণ্ডল এলাকার  মো. সেলিম মোল্লা ও  মো. দিলীপ মৃধা বলেন, আমাদের এলাকায় এমন থানা ভবন দেখে আমরা খুশি। কারণ, এখন এখানে মানুষজন বেড়েছে। থানা হলে সবার অনেক ভালো হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে। আমরা চাই দ্রুত থানা উদ্বোধন হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার পরিবহন চলচালে নিরাপত্তার বিষয়ে থানা দুইটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল ও শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উভয়েই জানান, এই দুই থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। চালুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। জনবল অনুমোদন হয়েছে এখন; উদ্বোধনের অপক্ষোয় রয়েছে। 

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই থানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতই তাদের কার্যক্রম হাতে নেবেন। এতে এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সেতু বিভাগ দৃষ্টিনন্দন চারতলা থানা ভবন দুটি তৈরি করেছে। মাওয়া প্রান্তের থানা ভবনটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, জাজিরা প্রান্তে ১৬ কেটি ২৬ লাখ টাকা। প্রায় দুই বছর আগে ভবন দুটির নির্মাণ শেষ হয়েছে। এত দিন থানা দুটি ট্রাফিক পুলিশ ব্যবহার করেছে। তাই উদ্বোধনের আগে ঘষামাজাসহ নতুন রং করা হচ্ছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, থানা দুটির কাজ শুরু হলে পদ্মা সেতুর আশপাশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধসহ দুর্ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব হবে। লৌহজং উপজেলার মেদেনীমণ্ডলে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার অদূরে নতুন থানা ভবন দেখে খুশি এলাকার মানুষজন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads