পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ফেরিওয়ালাদের ব্যবসা নেই

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ফেরিওয়ালাদের ব্যবসা নেই

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কানের দুল, চেইন, ব্যান, চুড়ি, ক্লিপ,চিরুনিসহ হরেক রকমের মাল কাঁধে নিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ঘুরে বেড়ান বিক্রেতারা। প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এ ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপরও। বর্তমান পরিস্থিতি অনেটাই স্বাভাবিক হলেও ব্যবসা নেই বলে এমন দাবি করেছেন তারা। আগে যেখানে গ্রামে ঘুরে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা বিক্রি হত এখন ৪-৫শ টাকা বিক্রি কঠিন হয়ে যায়। ফলে মন্দাভাব না কাটায় অর্থ সংকটে ভুগছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যমতে, এই উপজেলায় অর্ধশতাধিক হরেক মাল বিক্রেতা রয়েছে। যাদের বাড়ি জেলার নাসিরনগর, সরাইল ও বাঞ্জারামপুরে।
আখাউড়ায় তারা বাসা ভাড়া করে দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফেরি করে গৃহিনীদের কানের দুল, চেইন, ব্যান, চুড়ি, ক্লিপ,চিরুনিসহ হরেক রকমের মাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু করোনায় তাদের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেয়।

মো. গেছু মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, স্ত্রী, ৩ মেয়েসহ তার ৫ জনের সংসার। হরেক মাল বিক্রির উপর চলে এই সংসার। করোনার শুরু থেকে এখন পযর্ন্ত ব্যবসা খুবই রাখাপ অবস্থা। গ্রামে গ্রামে ঘুরে মালামাল বিক্রি করায় করোনার ভয়ে আগের মতো মানুষ আসছে না। যেখানে দৈনিক ১৫শ টাকার উপর বিক্রি হতো বর্তমানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত ৪-৫শ টাকা বিক্রি কঠিন হয়ে যায়। একদিকে মাহাজনের টাকা, বাসা ভাড়া খাবার অন্যদিকে বাড়িতে টাকা পাঠানো সব মিলিয়ে কঠিন অবস্থায় তার দিন পার হচ্ছে। মাস শেষে যেখানে বাড়িতে ৭-৮ হাজার টাকা দেওয়া যেতো এখন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া খুবই কষ্ট হয়ে যায়।
মো. ইনু মিয়া জানান, করোনাভাইরাসের আগে প্রতি মাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হতো এখন মাসে ১০-১২ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারছেন না বলে তিনি জানায়। করোনার ভয়ে আমাদের কাছ থেকে অনেকেই মালামাল ক্রয় করতে চায় না। তাই বেচাবিক্রি কমে গেছে। স্ত্রী,৫ ছেলেসহ ৭ জনের সংসারে এই ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর দিনানিপাত করতে হয় বলে জানায়। এই পরিস্থিতিতে দৈনিক ৬শ টাকার উপর মাল বিক্রি করা যায় না। বর্তমানে খুবই কষ্টে দিনগুলো যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্বেও এ ব্যবসা ছাড়তে পারছিন না। কারণ যে বয়স হয়েছে তাতে কোন ভারী করা করা সম্ভব নয়। তাই কোন মতে পড়ে আছি।
ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আগের মতো ব্যবসা নেই।

মো: জাহাঙ্গীর বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এখানে বেশ কয়েকজন লোক একটি বাসা ভাড়া থাকেন তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পযর্ন্ত কানের দুল, চেইন, ব্যান, চুড়ি, ক্লিপ, চিরুনিসহ হরেক রকমের মাল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে বেড়ায়। দিন শেষে ১ থেকে দেড় হাজার টাকার মাল বিক্রি হতো বলে জানায়। মাস শেষে যাবতীয় খরচ বাদে ৮-১০ হাজার টাকা আয় হয় হতো। মাসে এক বার বাড়ি গিয়ে পরিবারর সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সংসারের খরচের টাকা দেওয়া হতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। সব কিছু স্বাভাবিক হলে ও বেচা বিক্রি ও আয় রোজগার কমে যাওয়ায় খুবই কষ্টে চলছে তাদের দিন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads