পলাশে কচু ক্ষেত থেকে যুবতির লাশ উদ্ধার

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

পলাশে কচু ক্ষেত থেকে যুবতির লাশ উদ্ধার

  • নরসিংদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৮ মার্চ, ২০২০

নরসিংদীর পলাশে আফিয়া আক্তার (১৬) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর লাশ বাড়ির পাশের কচু ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বুধবার ভোর রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া বাজার এলাকায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের দুই বোন, এক ভাই ও এক বোন জামাইকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নিহত আফিয়া আক্তার গজারিয়া গ্রামের আজাহার মিয়ার মেয়ে। সে গজারিয়ার উলুম দাখিল মাদ্রসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে রাসেল নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সর্ম্পকে জড়িয়ে পরে আফিয়া। রাসেল আফিয়াকে বিয়ের করা জন্য আফিয়ার বাড়ীতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু রাসেল আগে থেকেই অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করার খবর জানতে পেরে আফিয়ার পরিবার এই সম্পর্ক মানতে পারছিল না। পরবর্তীতে আফিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তার বড় ভাই আলম গত একমাস যাবৎ তার নিজের কাছে রেখে দেয়। মাঝে মধ্যে রাসেল ওই মোবাইলে ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্ঠা করলেও আফিয়ার বড় ভাই আলমের কারণে তা সম্ভব হতো না। এ নিয়ে আফিয়া ও তার পরিবারের মধ্য প্রায়ই ঝগড়া হত।

নিহতের বাবা আজাহার মিয়া জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আফিয়া তার দুই বোন ও একই ঘরের পাটিশন রুমে তার দুই ভাই শাখায়ত ও আলম ও দুই বোনের জামাই মোশারফ ও তারেক এক সাথেই ছিল। রাতে হত্যাকারীরা ঘরের সিঁধ কেটে ঘুমন্ত অবস্থায় আফিয়াকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বাড়ির পাশে ফেলে যায়। পরে ভোর রাতে শোয়া অবস্থায় বোনের বাচ্চার কান্নার শব্দে বোনের ঘুম ভাঙ্গলে তাকে বিছানায় না পেয়ে ঘরের সিঁধ কাটা দেখে বাইরে খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে ঘরের পূর্ব পাশে কচু ক্ষেতের পাশেরক্তাক্ত অবস্থায় আফিয়াকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আফিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।

তবে আশপাশের বাড়ীর লোকজন জানায়, গভীর রাতে নিহতের পিতা আজাহার ও নিহতের মা র” ডাক চিৎকারে আশপাশের বাড়ীর লোকজন ছুটে আসলে কিছুই হয়নি বলে নিহতের পরিবার থেকে জানানো হয়। পরবর্তীতে ভোর সকালে আবার নিহতের পরিবারে কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে আশপাশের বাড়ীর লোকজন ছুটে আসলে পরিবার থেকে জানানো হয় ঘরের সিঁধ কেটে কে বা কারা ঘুমন্ত অবস্থায় আফিয়াকে তুলে নিয়ে হত্যা করে বাড়ীর পাশে ফেলে রেখে চলে যায়।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহেদ আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দুই ভাইসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথায় ও গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বোনের প্রেমজনিত বিষয় নিয়ে ভাইদের সঙ্গে ঝগড়ার বিষয়টি শুনেছি। আবার নিহতের কথিত প্রেমিকের বিষয়টিও আমার আমলে নিয়েছি। যদিও সে সম্প্রতি বিয়ে করে ফেলেছে। হত্যার সার্বিক দিক বিবেচনা করে আপাতত নিহতের ভাই, দুই বোন ও বোন জামাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আশা করি খুব দ্রুত এই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads