ইউক্রেনের হামলার পরই রাশিয়ার ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা বিশ্ব। তারই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের লিজিং কোম্পানিগুলোর শত শত বিমান জব্দ করছে রাশিয়া।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানায়, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে রাশিয়ার এয়ারলাইনস বিদেশি কোম্পানির লিজ নেওয়া বিমানগুলোর নিবন্ধন করতে পারবে। নতুন আইনের কারণে রাশিয়ান এয়ারলাইনস বিদেশি কোম্পানি থেকে লিজ নেওয়া বিমানগুলো রেখে দিতে পারবে ও অভ্যন্তরীণ রুটে এগুলো ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তাছাড়া রুশ সরকারের অনুমোদন ছাড়া এ বিমানগুলো ফিরে পাবে না বিদেশি কোম্পানি।
এদিকে, নিরাপদে বিমান চালাতে যেসব খুচরা যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়, রুশ এয়ারলাইন্সকে তার সরবরাহ ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছে এয়ারবাস (ইএডিএসএফ) ও বোয়িং (বিএ) এর মতো পশ্চিমা বিমান কোম্পানিগুলো। এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স ফার্ম সিরিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, রাশিয়ার বিমান সংস্থাগুলোর কাছে ৩০৫টি এয়ারবাস জেট এবং ৩৩২টি বোয়িং জেট রয়েছে।
এছাড়া পশ্চিমা বিমান কোম্পানি যেমন- বম্বার্ডিয়ার, এম্ব্রেয়ার এবং এটিআর নির্মিত ৮৩টি আঞ্চলিক জেটও রয়েছে রাশিয়ায়। এর বিপরীতে, রুশ বিমান সংস্থার সক্রিয় বহরে মাত্র ১৪৪টি বিমান রয়েছে, যেগুলো রাশিয়ায় নির্মিত।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন ২৭ লাখের বেশি মানুষ। এ ছাড়া যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা নিহত এবং রাশিয়ার ১৩ হাজার ৮০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৫০০ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ৬৩৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৬ শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইউক্রেনে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে
সূত্র : সিএনএন





