পাঁচজনের সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

ক্যাসিনো কানেকশন

পাঁচজনের সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক

  • এমদাদুল হক খান
  • প্রকাশিত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ক্যাসিনো কানেকশনের অভিযোগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ও তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়া এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক (বিসিবি) লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান তাদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়ার পর মাঠে নামেন দুদক কর্মকর্তারা।

দুদক কর্মকর্তারা তাদের অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও মানি লল্ডারিং, প্রভাব বিস্তার ও কাজের অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখবে বলে সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের খবরকে জানিয়েছেন। এছাড়া ক্যাসিনোর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সম্পদের অনুসন্ধানেও মাঠে নামবে দুদক। তাদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে দুদক কার্যালয়ে জমা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

ক্যাসিনোর ব্যবসা ও চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির অভিযোগে আটক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জি কে শামীম, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনা ও তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়াকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ। রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম জানিয়েছেন, গণপূর্তের কাজ পেতে নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের ১৫ থেকে ২০ জনকে নিয়মিত ঘুষ দিতে হতো। ইতোমধ্যে বিপুল টাকার বিনিময়ে শামীমকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন অতিরিক্ত প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে। শুধু উৎপল নয়, শামীমের কাছ থেকে শত কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও। এরই মধ্যে রফিক-উৎপলসহ অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দারা। 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য বরখাস্ত হওয়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে ওএসডি হওয়ার আগে ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা জোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিভাগের প্রধান ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই বিভাগের বেশির ভাগ বড় কাজই তিনি জি কে শামীমকে পাইয়ে দিয়েছেন বড় অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে।

নিম্নমানের রড-সিমেন্ট দেওয়ায় নির্মাণের সময়ই ভেঙে পড়ে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীর। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব ছিলেন এই উৎপল দে। পরে এ ঘটনার তদন্ত করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তাতে দোষী সাব্যস্ত হন উৎপল। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন উৎপল। তার দাবি, শাক দিয়ে মাছ ঢাকতেই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগেও ভাড়াটিয়া ছিলেন গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ও তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়া। এখন অন্তত ৩০টি বাড়ির মালিক তারা। নামে-বেনামে আছে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা বলছেন, এর সবই তারা করেছেন, ক্যাসিনো থেকে পাওয়া টাকার বিনিময়ে।

রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করেই এই অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এনামুল-রুপন। বাউনিয়ার বাড়িটি বছর খানেক আগে কিনেছেন তারা। এখানে তারা না থাকলেও মঙ্গলবার র‍্যাবের অভিযানে এ বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় এক কোটি ৫ লাখ টাকা ও ৭২০ ভরি স্বর্ণ। এলাকাবাসীও জানতেন ক্যাসিনো চালাতেন তারা। গত শনিবার শাবনাজ স্টিল কিং থেকে ৫টি সিন্দুক কেনেন এনামুল। তারা জানিয়েছেন, এর আগেও এমন সিন্দুক কিনেছেন তারা।

এনামুল হক এনা আছেন থাইল্যান্ডে, তবে রুপন ভূঁইয়ার অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে রয়েছে র‍্যাব। তবে তাদের এ বিপুল সম্পত্তি ক্যাসিনো ব্যবসা থেকেই এসেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads