পাকশীতে অবহেলিত গণকবর, সংরক্ষণের দাবি

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

পাকশীতে অবহেলিত গণকবর, সংরক্ষণের দাবি

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ মার্চ, ২০২২

সামনে অসংখ্য পলিথিনের নোংড়া, অগোছালো ছোট-বড় চারা গাছ। এর মধ্যেই পরম নিদ্রায় শায়িত আছেন ঈশ্বরদীর ৫ শহীদ। সেদিন ছিল ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঈশ্বরদীর পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালে কর্মরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিক আহমেদ ও তার তিন ছেলেসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে নিমর্মমভাবে হত্যা করা হয়। রেল কোয়ার্টারের বাসায় হামলা চালিয়ে এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। সেদিন ডা. রফিক আহমেদ, তার তিন ছেলে জিয়া উদ্দিন দুলাল, সাইফ উদ্দিন মামুন ও রইচ উদ্দিন শামিমসহ তাদের বাসায় বেড়াতে আসা আত্মীয় আমিনুল হককে নির্মমভাবে হত্যা করে বিহারি ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

পরবর্তীতে এই পাঁচ শহীদকে পাকশীতে পানির ট্যাঙ্কির নিকট রাস্তার পাশে সমাহিত করা হয় একটি গণকবরে। সেসময় বাসার বাইরে থাকায় ডা. রফিক আহমেদের স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েটি প্রাণে বেঁচে যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী-সন্তানহারা স্ত্রী তার মেয়েটিকে নিয়ে পাকশী ত্যাগ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫০ বছর পরও পাকশীতে এই গণকবরটি পাকশীবাসীকে মনে করিয়ে দেয় সেদিনের নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা। কিন্তু এখনও অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে পাঁচ শহীদের কবর। সংরক্ষণের অভাবে গণকবরটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এই গণকবরটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার কারণে কবরের প্লাস্টার, গাঁথুনি ধবংস হতে চলেছে। শহিদ পরিবারের কেউ পাকশীতে বসবাস না করার কারণে এটি সংস্কারও করা হয় না দীর্ঘদিন।

সরজমিনে দেখা যায়, যত্নবিহীন পরে আছে পাঁচ শহীদের কবর। সামনে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য চারাগাছ। জমে আছে বিভিন্ন স্থান থেকে উড়ে আসা ময়লা। কবরের গায়ে লেখা নামগুলো আজ বিলিনের পথে। মলিন হয়ে গেছে কবরের রং।

পাকশীর সাধারণ মানুষ মনে করেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গণহত্যার শিকার এই ৫ শহীদের গণকবরটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা বাসের আলী বলেন, ৭১ সালে এই পাঁচজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এদের কবর সংরক্ষণ করা উচিত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক অধ্রাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, বছরের পর বছর এই গণকবর অবহেলিত, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় এই গণকবর সংরক্ষণ করা উচিৎ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads