জাতীয়

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চার হাজার শিক্ষক অনুপস্থিত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ জানুয়ারি, ২০২১

শিক্ষা কার্যক্রম চলছে দেশের এমন ৪৩ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ শতাংশের বেশি শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন ক্লাসে। সে হিসাবে মোট ১৫ হাজার ২৯৩ জনের মধ্যে ৪ হাজার ২৭ জন শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে রয়েছেন।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন ক্লাস নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বড় কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে শিক্ষক সঙ্কট। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে অপেক্ষাকৃত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষকের সঙ্কট বেশি। বিজ্ঞপ্তি দিয়েও ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জুনিয়র শিক্ষক দিয়েই চলছে সেখানকার পড়াশুনা। এর মধ্যে শিক্ষকরা বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে যাওয়ায় পড়াশুনা ও গবেষণার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে মত সংশ্লিষ্ট অনেকের। ইউজিসির সর্বশেষ (২০১৯ সালের) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ৪৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ২৭ শিক্ষক অন্তত ৫ ধরনের ছুটিতে ছিলেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে ২ হাজার ২৬৪ জন আছেন শিক্ষা ছুটিতে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৩৩ জন। প্রেষণ বা লিয়েন নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন ৭৮ জন। আগের বছরের চেয়ে এটি বেড়েছে ৮ জন।

এছাড়া বিনা বেতনে ছুটিতে আছেন ৬৫ জন আর ছুটি শেষ হওয়ার পরও অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন ১৩ জন। এ সংখ্যা গত বছর ছিল যথাক্রমে ৭০ জন ও ২৫ জন। খণ্ডকালীন বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন ১ হাজার ৬১৯ জন। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়েছে ৫২২ জন। গত বছর এই ছুটিতে ছিলেন ১ হাজার ৯৭ জন। ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট শিক্ষকের ২৪ শতাংশই ছিলেন ছুটিতে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এনজিও ব্যবসা, বিদেশি সংস্থায় পরামর্শকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ করছেন আরো ৫ শতাধিক শিক্ষক। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন অধ্যাপনা করছেন ৪ হাজার ২০৯ জন। সাধারণত এসব শিক্ষকের বেশিরভাগই কোনো রকমে ক্লাস নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে ছুটে যান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউজিসির উল্লিখিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ২০৯ শিক্ষক খণ্ডকালীন চাকরি করছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩০৮ জনই অধ্যাপক। এছাড়া সহযোগী অধ্যাপক ৬০৩ জন, ৭৪৩ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ১ হাজার ৩২৮ জন প্রভাষক। অন্যান্য ধরনের খণ্ডকালীন শিক্ষক আছেন ২২৭ জন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খণ্ডকালীন শিক্ষকের বেশিরভাগই বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাড়া করা। অথচ ইউজিসির প্রতিবেদনে এ সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৭ জন। গত বছর বা ২০১৮ সালে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪ হাজার ১৪৫ শিক্ষক ছিলেন খণ্ডকালীন।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটিটা হচ্ছে গবেষণা বা উচ্চশিক্ষার ছুটি। এতে শিক্ষকের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে। কিন্তু আমাদের অনেকে সে কাজটি না করে আর্থিক আয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া কেউ কেউ সময়মতো ফিরতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া শিক্ষকরা আরো কিছু ছুটি নিয়ে থাকেন। এর মধ্যে লিয়েন, প্রেষণ ইত্যাদি আছে। তবে জাতীয় প্রয়োজনে লিয়েনসহ অন্যান্য ছুটি নিয়ে শিক্ষকরা বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads