বিভিন্ন পত্রিকায় পীরগঞ্জে 'ভুয়া ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণা' শিরোনামে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, ভুক্তভোগী ও এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রংপুর কোতয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। ডিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাসেল নিজের সব দোষ স্বীকার করেন।
পরে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, এডিসি মোঃ জুনায়েদ আলম সরকার ও ফাইনানন্সিয়াল ক্রাইম ইনভেষ্টিগেশন টীমের এডিসি মুহিদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএ পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে চাকরি দেওয়া, বদলী বাণিজ্য, বদলি ঠেকানো, ভয় ভীতি প্রদর্শন আদালতে মামলার রায় পক্ষে নেওয়া ও নিস্পত্তিসহ বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেছেন। এ কাজে ব্যবহারের জন্য দুইটি মোবাইল ফোন, দুইটি সীম, ১৬ প্রকার ভিজিটিং কার্ড (সরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিও পরিচয়ধারী) এবং একটি সীল মোহর উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার পুত্র রাসেল মিয়া ওরফে রাজ বিন রাসেল তালুকদার। অতিরিক্ত ব্যক্তিগত অফিসার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত ডিআইজি,পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকসহ বড় বড় আমলা, সরকারী দলের নেতা নেত্রীর পাশে কৌশলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করতেন রাসেল।
এদিকে রাসেল গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় মিষ্টি বিতরণসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।





