পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধের প্রতিবন্ধী অটোচালককে হত্যার অভিযোগ

ফাইল ছবি

সারা দেশ

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধের প্রতিবন্ধী অটোচালককে হত্যার অভিযোগ

  • রংপুর ব্যুরো
  • প্রকাশিত ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

রংপুর নগরীর পার্কের মোড় কোর্ট পাড়া এলাকায়  প্রতিবন্ধি অটো চালক নাজমুল ইসলামকে চুরির অপরাধে দু’হাতের নখ উপড়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ এবং ভাংচুর করেছে স্থানীয়রা।স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্য হাসান আলী ও তার স্ত্রী সার্থী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে নগর পুলিশ। বুধবার বিকেল পাঁচটার কিছু পরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাজমুলের প্রতিবেশী শরিফুল ইসলাম জানান, রংপুর নগরীর পার্কের মোড় কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাসকারী রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলীর একটি অটো ভাড়া নিয়ে চালাতো প্রতিবন্ধী নাজমুল ইসলাম। দু’দিন আগে অটো চুরি হলে এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল হাসান প্রতিবন্ধি নাজমুলকে মঙ্গলবার রাতে তার বাসায় ডেকে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, নাজমুল আসার পর তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। বুধবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ নাজমুলের ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে নিহত নাজমুলের লাশ একটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে ছিলো। নাজমুল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রী সাথী বেগম প্রচার চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শী  শিল্পী বেগম জানান, আমরা খবর পেয়ে নাজমুলের বাড়িতে অনেকেই যাই। এসময় নাজমুলের দু’হাতের নখ  থেতলানো এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখি।

নিহত নাজমুল ও পুলিশ সদস্য হাসান আলী একই পাড়ায় থাকতো।

প্রত্যক্ষদর্শী ইভান জানান,  ঘটনা জানাজানি হলে শত শত মানুষ নিহত প্রতিবন্ধি নাজমুলকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে এলাকাবাসি পুলিশ কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রী সাথী বেগমকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে নগরীর পার্কের মোড় এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম- লালমনিরহাট  মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় বেশ কয়েকটি অটোরিক্সাসহ যানবাহন ভাংচুর করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রায় দেড় ঘন্টাপর সন্ধা ৬ টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে।

রংপুর মেট্রোপলিটৈান পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাফ হোসেন জানান,  আমরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানকার মানুষজন পুলিশ সদস্য হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথি বেগমকে গ্রেপ্তারের দাবী জানায়। পরে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি। ঘটনা স্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নির্যাতনে ব্যাবহৃত হাতুড়ি ও একটি প্লাস। নিহত নাজমুলের লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

রংপুর তাজহাট থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, নিহত নাজমুলের বাড়ি লালমনিরহাটের  মোস্তফি রথিপুর এলাকায় । সে পার্কমোড় কোর্ট পাড়া  এলাকায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ভাড়ায় থাকতো। ঘটনার পর নিহত নাজমুলের স্ত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

ওসি আখতারুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য হাসান ও তার স্ত্রী সার্থী বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। নাজমুলের স্ত্রী এই মামলার বাদি হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads